আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি জালিয়াতি মামলায় জয় কামদার ও কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে গিয়ে অভিযোগ করেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। ৮১ বছরের বৃদ্ধ জানিয়েছিলেন তার বাড়ির জমি নিয়ে সেখানে ফ্ল্যাট হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে তাকে ফ্ল্যাট না দিয়ে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়।
সেই ফ্ল্যাট পুলিশ অফিসার রাজকুমার সিংকে দিয়েছিল জয় কমদার। রাজকুমার সিংয়ের মেয়ে মেনকা জানিয়েছিলেন তিনি ও তার স্বামী এই ফ্ল্যাট টাকা দিয়ে অগ্রিম বুকিং করে কিনেছেন। এমনকি এজন্যে তাদেরকে লোনও নিয়ে হয়েছিল। সেই সমস্ত নথি নিয়ে মেনকাকে ইডি বুধবার সকালে তাদের দপ্তরে আসতে বলেছিল। সেইমতো বুধবার সকাল ১১টার পর সিজিও কমপ্লেক্সে আসেন রাজকুমার সিংয়ের মেয়ে মেনকা। তিনি ইডি দফতরে ঢোকার সময় জানান সমস্ত নথি নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল সেগুলি জমা দিতেই তিনি এসেছেন।
প্রসঙ্গত, জমি জালিয়তির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার সোনা পাপ্পু ও ব্যবসায়ী জয় কামদার। শ্রীঘরে এই মামলার অন্যতম চক্রী কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এবার জয় কামদারের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার'-এ যান ভবানীপুরের ৮১ বছরের বৃদ্ধ। প্রোমোটারির নামে জমি হাতিয়ে আর ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি বৃদ্ধকে। বার বার বলেও লাভ হয়নি। উল্টে, ব্যবসায়ী জয় কামদার তাঁকে কীভাবে বন্দুর বার করে ভয় দেখিয়ে ফ্ল্যাট না দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন সেই অভিযোগই শুভেন্দু অধিকারী সামনে তুলে ধরবেন ড. প্রবীর মুখার্জি, চান সুরাহা।
সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে সোমবার বসেছিল মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার'। সেখানেই এসেছেন প্রবীর বাবু। তিনি সেদিনই বলেছিলেন, "আমার বাড়ি ভবানীপুরের টাউনসেন্ড রোডে। আমরা আমাদের পৈতৃক ভিটে প্রমোটারকে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম ফ্ল্যাট দেবে আমাদের। প্রমোটার যে বিখ্যাত শয়তান জয় কামদার বুঝতে পারিনি। আর ছিলেন, পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সোনা পাপ্পুও। ওরা আমাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে জমি নিয়েছিল। সব লিখিতও ছিল। কিন্তু, ফ্ল্যাট আর পাইনি। যতবারই গিয়েছি জয় কামদার অফিসে সে আর দেওয়ার গা করেননি। শেষে বন্দুকও দেখিয়েছিল। আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যাতে আমি আর ফ্ল্যাট না চাই। আমাদের থেকে ১৭ লাখ টাকাও দাবি করে।"















