আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রথমবার রাস্তায় নামছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী ২ জুন ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তবে এখনও কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি। অনুমতি পেলে রানি রাসমণিতে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন মমতা। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, সকাল দশটা থেকে শুরু হবে অবস্থান বিক্ষোভ।
দুপুরে মঞ্চে যোগ দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই একাধিক বার ভোটে কারচুপি, ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে সরব হয়েছেন মমতা। এবার এই ইস্যুগুলি নিয়েই পথে নামতে পারেন তিনি।
জানা গিয়েছে, পুলিশের অনুমতি যদি পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে দিনভর অবস্থান চলবে। সেখান দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন মমতাও। এর আগে একাধিকবার ভিডিও বার্তায় বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মমতা। তবে এবার ফের রাস্তায় নামতে চলেছেন তিনি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্য সরকার গড়েছে বিজেপি। তারপর সম্প্রতি ফলতাতেও বিপুল মার্জিনে জিতেছে বিজেপি।
ফলতার ফলের পরই ফেসবুক লাইভে এসে একাধিক অভিযোগ করেন মমতা। ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছিলেন যে, তাঁর দল ভোটে মানুষের রায়ে হারেনি। সেই অবস্থানে অনড় থেকেই মমতার দাবি, '২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের, কিন্তু পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে।'
ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাশাটা উল্টে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১৫০ সিটে। আমরা ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পেতাম। মানুষের কোনও দোষ নেই। এভাবে কোনও রাজ্য চলতে পারে না। অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ ভাবছেন আমার চাকরিটা কী হবে, কেউ ভাবছেন আমার ব্যবসাটা কী হবে!'
তাঁর দাবি, 'ইভিএমের মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে। আপনি বাংলাকে লুঠ করেছেন। আপনার দিল্লি চলে যাবে।'
ভোট পরবর্তী অস্থিরতা, বিভিন্ন স্টেশন থেকে বেআইনি হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, 'আপনারা ভোট লুঠ করেছেন। আমাদের দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছেন, হকারদের জীবন-জীবিকা কেড়ে নিয়েছেন। পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছেন।' মমতা ব্যানার্জির দাবি, 'আইন সবার জন্য এক। আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না।'















