আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার বিধানসভা থেকে বেরিয়ে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। পুনর্বাসন ছাড়া অমানবিক হকার উচ্ছেদ, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজ্যে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ওপর নজিরবিহীন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
এদিনের বৈঠকে হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, "একদিকে যেমন অমানবিক ভাবে হকার উচ্ছেদ চলছে, তেমনি পাশাপাশি জিনিসের দামও আকাশ ছোঁয়া। জিনিসের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।" অথচ এই চরম দুরবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনো তাপ-উত্তাপ নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। হকারদের ওপর বুলডোজার চালানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া গরিব মানুষের পেটে এইভাবে আঘাত করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যাঁরা দিন এনে দিন খান, ছোট ছোট স্টল বসিয়ে সংসার চালান, তাঁদের ওপর এই অমানবিক বুলডোজার নীতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে কুণাল বলেন, এই বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক, যাতে গরিবদের কর্মসংস্থান না হারায়।
সাংবাদিক বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে সিআইডি-র তলব করার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষ জানান, যেহেতু বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত, তাই আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। আইন মেনেই যা হওয়ার হবে।
তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল নেতাদের যেভাবে নিশানা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, ইদানীং অদ্ভুতভাবে পুরনো দিনের মামলা হঠাৎ করে নতুন করে তুলে আনা হচ্ছে এবং তাতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নাম জুড়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই গ্রেপ্তারি বা তল্লাশির খবর প্রতিপক্ষ বিজেপি আগে থেকেই জেনে যাচ্ছে। যখন তৃণমূল নেতাদের ধরে আনা হচ্ছে, তখন সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের সামাজিক সম্মান নষ্ট করতে এবং 'মেলাইন' করতে ডিম ছোড়া হচ্ছে বা নানাভাবে অপমান করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এই ধরনের আচরণকে কোনওভাবেই 'আইনের শাসন' বলা যায় না।
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের উদাহরণ টেনে কুণাল ঘোষ বলেন, উজ্জ্বল বিশ্বাসের মতো একজন নিপাট ভদ্রলোক, যিনি একটি স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্য, প্রামাণ্য কিছু ছাড়াই হঠাৎ তাঁকে আইনের বেড়াজালে জড়িয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম অপমান করা হলো। তাঁকে ঘিরে যে কুৎসিত দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং যেভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে অজস্র অত্যাচারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের নোংরা ঘটনা বাংলায় কখনো ঘটেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর থেকেই এই ট্রেন্ড ক্রমাগত চলছে। বিরোধী নেতাদের সম্মানহানি করার এই প্রবল চেষ্টাকে 'বাহুবলীর রাজনীতি' ও 'প্রতিহিংসার রাজনীতির গ্যালারি শো' বলে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করার দাবি জানান কুণাল ঘোষ।















