আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার উত্তর-মধ্যাঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৩ কিলোমিটার।
প্রথম কম্পনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার মোরন শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে। এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, কারাকাসে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।”
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শুধু কারাকাস নয়, ট্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যও ভূমিকম্পের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাকাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দরের ছাদের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং ধুলোর ঘন মেঘ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রী ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পরপরই মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা পুয়ের্তো রিকো, মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি হুমকির সতর্কতা জারি করে। একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার উপকূলসংলগ্ন আরুবা, কুরাসাও এবং বোনাইর দ্বীপেও বিপজ্জনক ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বড় ধরনের সুনামি সৃষ্টির ঝুঁকি কমে গেছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
ভূমিকম্পের সময় বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার খবরও পাওয়া গেছে। এখনও পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশক বা পরাঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।















