আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা তিন দিন ধরে রাশিয়ার একেবারে গভীরে ঢুকে তীব্র ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন, আর তার জেরে এখন খোদ মস্কোর আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, মস্কোর অনেক জায়গায় আকাশ থেকে তেলের ছিটেযুক্ত 'কালো বৃষ্টি' পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা মানুষের জামাকাপড় ও গাড়িতে কালো দাগ রেখে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের এবারের মূল লক্ষ্য ছিল মস্কোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। ক্রেমলিন থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি মস্কো অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি সরবরাহ করে। সেখানে ইউক্রেনের এই জোরালো হামলার জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং বাধ্য হয়ে মস্কোর চারটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাশিয়ার দাবি, তারা রাতারাতি বিভিন্ন এলাকায় ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০টি সরাসরি মস্কোর দিকেই ধেয়ে আসছিল।
এই হামলার সময় ইউরোপে জি-৭ দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "যদি ইউক্রেন পোড়ে, তবে আপনাদের মস্কোকেও পুড়তে হবে।"
এদিকে, ইউক্রেনকে এর কড়া জবাব দিতেও ছাড়েনি রাশিয়া। তারা ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে বোমা, ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে, যেখানে দু'জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দু'জন আহত হয়েছেন। খারকিভেও রুশ হামলায় তিন শিশু-সহ পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও বড়সড় ড্রোন হামলা ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এখন আর শুধু দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে আটকে নেই, বরং তা আরও ধ্বংসাত্মক হয়ে একে অপরের একেবারে রাজধানীর বুকে আছড়ে পড়ছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই এই পাল্টাপাল্টি হামলা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণই নেই।















