আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্পেসএক্স-এর বড় ধাক্কা। একটানা তিন দিন ধরে শেয়ারবাজারে বড় পতনের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র তিনটি ট্রেডিং সেশনে সংস্থাটি ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হারিয়েছে। স্পেসএক্স প্রথমবার বিনিয়োগের উপযোগী করপোরেট বন্ড বিক্রির ঘোষণা করেছিল। তারপরই শেয়ারবাজারে এই ধস নামে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মূলত বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে স্পেসএক্স।

গতকাল সোমবার, মার্কিন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে গিয়েছিল। গত তিন দিনে স্পেসএক্সের শেয়ারের পতন হয়েছে ২৩ শতাংশ। বাজার থেকে মুছে গিয়েছে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন (৬০,০০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ।

তবে এই বিরাট পতনের পরও, স্পেসএক্সের বাজার মূলধন বর্তমানে ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের ঠিক ওপরে রয়েছে। স্পেসএক্স এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম সংস্থা।

এই বিশাল অঙ্কের বিষয়টি বোঝার জন্য একটি তুলনা দেখা যেতে পারে, ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, ভারতের দুই শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি (যাঁর নিট সম্পদ ৮৮.৩ বিলিয়ন ডলার) এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি (যাঁর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২০ বিলিয়ন ডলার)—এর সম্মিলিত সম্পদের প্রায় তিন গুণ অর্থ এই পতনের ফলে লোকসান হয়েছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পেসএক্স তাদের প্রথম বন্ড বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এছাড়া সোমবার সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, তারা ‘রিফ্লেকশন এআই’ নামের একটি স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো সরবরাহের জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইলন মাস্কের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’কে কিনে নেওয়ার পর থেকেই স্পেসএক্স মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিজেদের জোড়াল অবস্থান তৈরি করছে।

বাজারে গুঞ্জন, চলতি বছরই প্রযুক্তি খাতের অন্য দুই এআই জায়ান্ট ‘অ্যানথ্রোপিক’ এবং ‘ওপেনএআই’ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের পুঁজি নিয়ে আইপিওতে অংশ নিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই বিস্তারের কথা জানাজানি হতেই স্পেসএক্স এই ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার পর প্রথম দিনগুলোয় বাজারে জোর অস্থিরতা দেখা যায়। বাজারে লেনদেনের জন্য প্রথম দিন মাত্র ৪.২ শতাংশ শেয়ার ছেড়েছিল। শেয়ারের সংখ্যা কম থাকায় সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এটি কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি। লেনদেনের প্রথম পাঁচ কার্যদিবসেই সংস্থাটি নিট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে।

এমনকি গত সপ্তাহে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আমেরিকার বিখ্যাত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর (শীর্ষ সাতটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান) সব শেয়ার মিলিয়ে যা কিনেছে, তার চেয়েও বেশি স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছে। সোমবার শেয়ারের দাম কমলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিট ক্রেতা হিসেবেই ছিলেন, তবে ক্রয়ের পরিমাণ আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কম ছিল।