আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীনের রাজধানী বেজিংয়ে বড়সড় দুর্ঘটনা। শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং সিআইটিআইসি টাওয়ারে শনিবার ভেঙে পড়ে একটি বিমান। ওপর থেকে নিচে পড়তে পড়তে সোজা ওই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায় বিমানটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এদিনের ঘটনার একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিমানটির সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ের ধাক্কা লাগার পরেই মাটিতে পড়ছে ধ্বংসাবশেষ।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিল্ডিংটির কাচের দুটি অংশ ভেঙে গিয়েছে। পাশাপাশি মাটিতে বিমানের লেজের অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার জেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সির কাচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিমানটি ধাক্কা মারার পর ঘটনাস্থলে সামান্য আগুন লাগে এবং ধোঁয়া বেরোতেও দেখা যায়। তবে হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সিআইটিআইসি টাওয়ারে মাটির ওপরে ১০৮টি এবং নিচে সাতটি তলা রয়েছে। এই বিল্ডিংয়ে একসঙ্গে প্রায় ১২ হাজার অফিসকর্মী কাজ করতে পারেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর পুলিশ বিল্ডিংটির আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

এমনকী, সাধারণ মানুষকেও ভিডিও করতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি অনেকের তোলা ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

চীনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হলেও, সেগুলি দ্রুত অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি গাড়ির আকারের একটি ছোট বিমান।

বিমানের গায়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সানওয়ার্ড SA 60L অরোরা’ নামের একটি লাইট স্পোর্ট বিমান। এই বিমানটি তৈরি করে থাকে স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন সংস্থা।

ওই সংস্থার তরফে মূলত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত জেট এবং আকাশপথে ছবি তোলার মতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানা গিয়েছে।

তবে দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা চীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, বেজিংয়ে ড্রোন ওড়ানোর ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত ১ মে থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষ ড্রোন ওড়ানো, ভাড়া নেওয়া বা কেনাবেচা করতে পারবেন না।