আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। ৩৪ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে পদ্মাপারের দেশটি। মঙ্গলবার ছিল তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এদিন তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি চিঠিও তুলে দেন তারেকের হাতে। চিঠিতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি।

তারেককে লেখা চিঠিতে মোদি লিখেছেন, “বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জয় এবং বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।” মোদি চিঠিতে তারেক, তাঁর স্ত্রী জুবেইদা এবং তাঁর মেয়ে জাইমাকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোদি লিখেছেন, “আপনাদের স্বাগত জানাতে ভারত অপেক্ষায় রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে তাঁর আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে তারেকের নেতৃত্ব বাংলাদেশকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করবে, একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের পুনরায় মেলবন্ধন তৈরি করবে। যা অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত।

এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একই দিনে মুম্বইয়ে সাক্ষাতের পূর্ব প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মোদি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন বিড়লা।

&

গত বছর ডিসেম্বরে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তারেকের মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, প্রধানমন্ত্রী মোদি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মাধ্যমে তাঁকে একটি শোকপত্র পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের উল্লেখও করেছিলেন।

ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ক্রমশ অবনতি দেখা গিয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বারবার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি-র জয়ের পরে ভারত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করছে। বিএনপি-র জয় একটি অস্থির অন্তর্বর্তীকালীন পর্বের অবসান ঘটিয়ে এবং নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের দরজা খুলে দিয়েছে।