আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ব্রিটেন। তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর নিজের দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।  ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করতে গিয়ে স্টারমার আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তিনি তাঁর ভালোবাসার দেশকে সবসময় সবকিছুর আগে স্থান দিয়েছেন এবং সেই জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের পর দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথাতেই তাঁর এই আকস্মিক বিদায় ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 

নিজের বিদায়ী ভাষণে স্টারমার তাঁর সরকারের বেশ কিছু সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন।  তিনি দাবি করেন, তাঁর আমলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও দ্রুত হারে মানুষের বেতন বেড়েছে এবং পরিকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে. একই সাথে শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষা, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষার তালিকা কমানো এবং প্রায় পাঁচ লক্ষ শিশুকে দারিদ্র্যসীমার ওপর নিয়ে আসার মতো জনকল্যাণমুখী কাজ করেছে তাঁর সরকার। 

তবে এই সমস্ত সাফল্যের দাবি সত্ত্বেও স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ বিতর্ক এবং নীতি পরিবর্তনের অভিযোগে জর্জরিত ছিল।  নির্বাচনী প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি লেবার পার্টি দিয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল এবং ক্রমশ তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামছিল।  এর মাঝেই তাঁর দলেরই অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিতে সরাসরি কিয়ার স্টারমারকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, লেবার পার্টির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ১০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।  শেষ পর্যন্ত নিজের দলের এই প্রবল বিদ্রোহের সামনে মাথা নত করেই ব্রিটেনের সর্বোচ্চ পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন কিয়ার স্টারমার।