আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বের দরবারে ফের এক বঙ্গসন্তানের নজিরবিহীন সাফল্য। নিজের মেধা এবং অদম্য পরিশ্রমকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট জগতের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিলেন কলকাতার এক বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা অনুযায়ী, টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের ঠিক পরেই পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতনভোগী চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বা সিইও হলেন শঙ্খ মিত্র। আমেরিকার প্রথম সারির রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, ‘ওয়েলটাওয়ার ইনকর্পোরেশন’ (Welltower Inc.)-এর প্রধান পদে থাকা এই শঙ্খ মিত্রের উচ্চশিক্ষার যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল এ শহরেরই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে সত্যিকারের এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন শঙ্খ। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিই ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০২ সালে বিখ্যাত বহুজাতিক সংস্থা ‘প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস’ (PwC)-এ যোগ দিয়ে পেশাদার জীবন শুরু করেন এবং পাড়ি দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে পাঁচ বছর সাফল্যের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি ফের পড়াশোনায় ফিরে যান এবং স্বনামধন্য ‘কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল’ থেকে অ্যাপ্লায়েড ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালে তিনি পা রাখেন বিনিয়োগ পরিচালনার দুনিয়ায়, যেখানে তিনি প্রথমে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস এবং পরবর্তীতে ২০১২ সালে সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের মতো নামী সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।
২০১৬ সালে শঙ্খ প্রথমবার ‘ওয়েলটাওয়ার’ সংস্থায় পা রাখেন ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এর পর থেকে আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের অসামান্য যোগ্যতা ও দক্ষতার জোরে মাত্র চার বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২০ সালে তিনি এই সংস্থার সিইও পদে আসীন হন। আর বর্তমানে আয়ের নিরিখে তিনি বিশ্বের সমস্ত বাঘা বাঘা সিইও-দের পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছেন। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি বিশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, শঙ্খ মিত্রের বর্তমান বার্ষিক পারিশ্রমিক ৮২১ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৯ শতাংশই আসে তাঁর সংস্থার শেয়ার বা স্টক গ্রান্ট থেকে।
এই তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, যাঁর বার্ষিক আয় ১৫৮ বিলিয়ন ডলার। তবে অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলো, এই আন্তর্জাতিক তালিকার প্রথম দশজনের মধ্যে শঙ্খ মিত্র ছাড়াও ‘পালো অল্টো নেটওয়ার্কস’-এর নিকেশ অরোরা নামে আরও এক ভারতীয় অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। তাসত্ত্বেও গ্লোবাল কর্পোরেট মহলে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে কলকাতার এই বঙ্গসন্তানকে নিয়েই। বিশ্বের তাবড় তাবড় ধনকুবেরদের টেক্কা দিয়ে এক বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারের এই রাজকীয় উত্থান প্রমাণ করে দিল যে, মেধা এবং সঠিক পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব কিছু নয়।















