আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রাখল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিষয়টিকে আমেরিকার জন্য "দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে আদালতের এই ধাক্কাতেও পিছু হটতে নারাজ ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন এনে এই নিয়ম তিনি "সহজেই" বদলে দেবেন।

এক্স হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লিখেছেন, অত্যন্ত "ব্যয়বহুল এবং অন্যায্য"। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসের "আজ থেকেই" কাজ শুরু করা উচিত। এই বিষয়ে আইনসভার পাশে তিনি পুরোপুরি থাকবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

আমেরিকায় বেআইনিভাবে থাকা বা অস্থায়ী ভিসায় আসা বিদেশি দম্পতিদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিলেন ট্রাম্প। 

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সেই নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়। ৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া রায়ে দেশের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জানান, মার্কিন সংবিধানেই এই অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। তাই মার্কিন মুলুকে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

আদালতের এই রায়ের ফলে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প চাইলেই সহজে এই নিয়ম বদলাতে পারবেন না। এর জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। অন্য দিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সন্তান প্রসবের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে 'বার্থ ট্যুরিজম' ইদানীং দেখা যাচ্ছে, তা রুখতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে।

দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম দিনেই এই বিতর্কিত নির্দেশিকায় সই করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর কড়া  নীতির মধ্যে এটিই প্রথম কোনও বিষয়, যা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাল এবং ধাক্কা খেল।

মার্কিন আদালতের এই রায়ে স্বস্তিতে প্রবাসী ভারতীয়রা। বর্তমানে আমেরিকার দ্রুত বাড়তে থাকা অভিবাসী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ভারতীয়রাই অন্যতম। লাখ লাখ ভারতীয় পেশাদার ও ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন ভিসায় আমেরিকায় রয়েছেন।

পাশাপাশি, ১০ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ফলে আমেরিকার নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকে ভারতীয়দের।