আজকাল ওয়েবডেস্ক: সঙ্গীর 'খরচ বহন' করতে নিজেরই বাবা মা ও বোনকে খুন! বকেয়া ঋণের টাকা এবং ব্যাঙ্কের নোটিস নিয়ে অশান্তির জেরে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কডুগোডিতে নিজের বাবা, মা ও ছোট বোনকে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বেতা ও তাঁর সঙ্গী কেনেথের বিরুদ্ধে। কেনেথ পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
পুলিশ জানিয়েছে, কেনেথ একাই ওই তিনজনকে খুন করেছে, আর শ্বেতা পাশে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখেছে। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই পুদুচেরি থেকে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কেনেথের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার খরচ জোগাতে শ্বেতা বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। শ্বেতার বাবার বাড়িতে বকেয়া ইএমআই-এর নোটিস আসতে শুরু করায় ঝামেলা বাড়ে। বাবা-মা বারবার প্রশ্ন করায় কেনেথ শ্বেতাকে বলে, "ওদের শেষ করে দিতে হবে।"
এরই মধ্যে শ্বেতা জানতে পারেন, কেরলের এক আইটি কর্মীর সঙ্গে কেনেথের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর জন্য একটি ফ্ল্যাটও ভাড়া নেওয়া হয়েছে। শ্বেতা এই নিয়ে আপত্তি তুললে কেনেথ দাবি করে, নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য সে স্রেফ ‘টেকনিক্যাল সাহায্য’ নিচ্ছিল।
কেনেথের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২১ জুন রাতেই সে খুনের ছক কষেছিল। কেনেথের প্রেমিকা তখন কেরলে থাকায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। বকেয়া ঋণ নিয়ে আলোচনার বাহানায় শ্বেতার পরিবারকে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁরা এলেও সে রাতে কেনেথ সাহস পায়নি। সেদিন শ্বেতার মা তাঁদের ফ্ল্যাটেই থেকে যান।
পরদিন, অর্থাৎ ২২ জুন শুধু শ্বেতার মাকে খুন করে দেহ লোপাট করার পরিকল্পনা করা হয়। সোফায় বসে টিভি দেখার সময় শ্বেতার মা মুত্তুলক্ষ্মীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে কেনেথ। শ্বেতা দূরে দাঁড়িয়ে তা দেখছিল।
ঠিক তখনই হঠাৎ দরজার বেল বেজে ওঠে। সময়ের আগেই চলে আসেন শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর ও বোন সুপ্রিয়া। প্রমাণ লুকাতে তড়িঘড়ি মায়ের দেহটি শোওয়ার ঘরে টেনে নিয়ে যায় তারা।
বাবা ঘরে ঢুকতেই কেনেথ তাঁর পিঠে ছুরি মারে। সোমাসুন্দর পাল্টা বাধা দিয়ে চিৎকার করতে করতে করিডোরের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। ও দিকে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে শ্বেতার ২০ বছরের বোন সুপ্রিয়া। অভিযোগ, শ্বেতা নিজের বোনের মুখ চেপে ধরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়, আর কেনেথ এসে সুপ্রিয়ার ঘাড়, পেট ও পিঠে ছুরি চালায়।
এরপরই দু’জনে বাইক নিয়ে তামিলনাড়ুর দিকে পালায়। কিন্তু বেঙ্গালুরু থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে তিরুভান্নামালাইয়ের কাছে তাদের বাইকটি খারাপ হয়ে যায়। মৃত্যুর আগে সোমাসুন্দর অবশ্য প্রতিবেশীদের কাছে খুনিদের পরিচয় জানিয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তারা কোথায় বাইকটি ফেলে রেখে পুদুচেরির বাস ধরেছিল, তা পুলিশকে জানিয়েছে।















