আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ কি তবে থামবে? সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্যে অন্তত সেই আশাই দেখছে কূটনৈতিক মহল।
ইরান ও আমেরিকার সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধ চিরতরে মেটাতে একটি সফল ও চূড়ান্ত চুক্তির শক্ত ভিত তৈরি করা গিয়েছে।
সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, "চূড়ান্ত চুক্তিটি যদি একটি বাড়ি হয়, তবে আমরা তার ভিতটি গড়ে ফেলেছি। এখনও পুরো বাড়ি তৈরি হয়নি ঠিকই, তবে মার্কিন স্বার্থে একটি ভালো জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে।" ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবফের সঙ্গে ভ্যান্সের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সুইৎজারল্যান্ডের এক পাহাড়ি রিসর্টে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সোমবার শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করতে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। গত এপ্রিল থেকে চলা যুদ্ধবিরতির মেয়াদও আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
অবশ্য বৈঠকের শুরুটা সহজ ছিল না। তেহরান ফের বাণিজ্যিক জাহাজের অন্যতম পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধের ঘোষণা করায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় মারাত্মক হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, পাল্টা আক্রমণ বন্ধ না হলে ইরানের বুকে আরও বড় আঘাত হানা হবে। ট্রাম্পের এই কড়া মনোভাবের কারণে 'ক্ষুব্ধ' ইরানকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয় মধ্যস্থতাকারীদের।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে দুই দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে একটি বিশেষ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
এদিকে বৈঠক নিয়ে দু’পক্ষের সুরে কিছুটা অমিল রয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তাঁদের ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে। যদিও মধ্যস্থতাকারীদের বিবৃতিতে অর্থ বা সম্পত্তি ছাড়ের এমন কোনও স্পষ্ট উল্লেখ মেলেনি। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই বৈঠকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির মতো বড় বিষয়গুলি নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি।















