আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের জনকপুরী কলোনিতে বুধবার দিনভর ছিল। এলাকার জনবিন্যাস পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা মুসলিম পরিবারেগুলোর কেনা বাড়ির সামনে প্রতিবাদ জানান এবং হনুমান চালিসা পাঠ করেন।

'হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি'র সদস্যরা কলোনিতে পৌঁছে মুসলিম পরিবারগুলোর কেনা কয়েকটি বাড়ির সামনে প্রার্থনা শুরু করলে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তদন্ত শুরু করেন।

প্রাথমিক পরিদর্শনের পর প্রশাসন দু'টি বাড়ি সিল করে:
পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান যে, হিন্দু-প্রধান ওই কলোনিতে কয়েকটি মুসলিম পরিবার প্রায় ছয়টি বাড়ি কিনেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মধ্যে চারটি বাড়ি 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা' (পিএমএওয়াই)-এর আওতায় তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যালোচনার পর জেলা প্রশাসন সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বলে অভিযোগ ওঠা দু'টি বাড়ি সিলগালা করে দেয় এবং সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি বাড়িগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

বাড়ি কেনা নিয়ে হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ
হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কলোনিতে বাড়ি কিনছেন। তাঁদের দাবি, এর ফলে এলাকার জনবিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সমিতির আহ্বায়ক নরেন্দ্র পাওয়ার বলেন, "আমরা এখন এলাকা ছেড়ে যাব না, আমরা লড়াই করব।" তিনি শহরের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করার বিরুদ্ধে সরব হন ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নরেন্দ্র পাওয়ার আরও ঘোষণা করেন যে, মুসলিম পরিবারগুলো এলাকা ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় কলোনিতে হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করবেন।

মুসলিম পরিবারগুলোর বক্তব্য
বাড়ি কেনা মুসলিম পরিবারগুলো জানিয়েছে, কিছু বাড়ি যে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে তারা অবগত ছিল না।

মহম্মদ আজিম নামে এক বাসিন্দা জানান, কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই তাদের বিষয়টি জানায় এবং কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বাড়িটি সিলগালা করে দেয়। তিনি দাবি করেন, বাড়িটি প্রায় দেড় মাস আগে কেনা হয়েছিল এবং তখন প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি।

আজিম জানান, বাড়ির জন্য তিনি প্রায় ২৩.২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়িটি যে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছিল, তা বিক্রেতা তাঁকে জানাননি। তিনি এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন যে, ওই পরিবারটি এই সম্পত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছিল, অথচ এখন তাদের থাকার মতো কোনও জায়গা নেই।

পুলিশের বক্তব্য: আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে
এএসপি সিদ্ধার্থ মিশ্র জানান, পুলিশ খবর পায় যে জনকপুরী কলোনির দুই-তিনটি বাড়ির সামনে ২০-২৫ জন লোক জড়ো হয়ে কিছু দাবি-দাওয়া পেশ করছে। তিনি বলেন, “সিভিল লাইন্স পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তহসিলদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং জনগণের উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।