আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেবল বিবাহ বিচ্ছিন্না, অবিবাহিতা কিংবা বিধবা মেয়েরাই নন, বাবার চাকরির ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েরাও সমান অধিকার পাবেন। বিহারের এক মামলায় জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। 

বিহারের এক সরকারি চাকুরীজীবী ব্যক্তির মৃত্যুর পর, তাঁর বিবাহিতা মেয়ে  ওই চাকরির  জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তিনি বিবাহিত হওয়ায়, প্রশ্ন ওঠে তা নিয়ে। পাটনা আদালতে গেলে, সেখানেও খারিজ হয়ে যায় তাঁর আর্জি। উচ্চ আদালতের যুক্তি ছিল, তিনি বিবাহ-বিচ্ছিন্না কিংবা অবিবাহিতা কিংবা বিধবা নন। যুক্তি ছিল, বিয়ের পর মেয়েরা শ্বসুর বাড়ি চলে যাওয়ায়, বাবার বাড়ির সঙ্গে সেই অর্থে যোগাযোগ থাকে না। এইসব যুক্তি খারিজ  করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাবার চাকরির ক্ষেত্রে, মানবিক কারনে বঞ্চিত করা যাবে বিবাহিত মেয়েকেও। 

আদালতের পর্যবেক্ষণ, চাকরির ক্ষেত্রে যেমন পুত্র সন্তান আর কন্যা সন্তানেরভফারাক করা অসাংবিধানিক, তেমনই কেবল বিবাহ-বিচ্ছিন্না, অবিবাহিত কিংবা বিধবা, এই নীতি বেঁধে দেওয়াও যায় না। তা আইনের চোখে গ্রাহ্য নয় এবং অসাংবিধানিক  এবং তা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সমতার অধিকারের পরিপন্থী। বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ বিহার সরকারের ২০১৪ সালের একটি নীতি খারিজ প্রসঙ্গে এই রায় দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করেছে যে, আদালত বারবারই এ কথা বলেছে যে পুত্র ও কন্যার মধ্যে পার্থক্যকারী যেকোনো শ্রেণিবিভাগ বা বিভাজন মূলত অসাংবিধানিক।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবেদনকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন—যদিও তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি স্বীকৃতি পায়নি, তবুও তিনি তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকেন মা ও ভাইয়ের কাছেই।  বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, শুধুমাত্র অতি-প্রযুক্তিগত বা কঠোর আইনি-প্রক্রিয়াগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের অজুহাতে সহমর্মিতামূলক নিয়োগের দাবি বিবেচনা করতে অস্বীকার করা যায় না।