আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের জাতীয় গীত ‘বন্দেমাতরম’-কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সংসদ। বুধবার রাজ্যসভায় প্রভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার বিল ২০২৬ পাশ হয়েছে। এই সংশোধনী কার্যকর হলে ‘বন্দেমাতরম’-এর গানে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি করা বা জাতীয় গানকে অসম্মান করার মতো নির্দিষ্ট কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


বর্তমানে এর আওতায় জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ আইনি সুরক্ষা পায়। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’। এর ফলে জাতীয় গান সম্পর্কিত নির্দিষ্ট ধরনের অবমাননা বা ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


বিলে বলা হয়েছে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেন, গানটিকে অপমান বা অসম্মান করার উদ্দেশ্যে কোনও কাজ করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় প্রতীকগুলির অবমাননার ক্ষেত্রেও এই আইনের বিধান প্রযোজ্য থাকবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।


সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এবং তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ অন্তর্ভুক্ত ‘বন্দেমাতরম’ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে এটি ভারতের জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত।


তবে আইনটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘অসম্মান’ বা ‘বাধা’ শব্দগুলির ব্যাখ্যা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গীত গাওয়ায় বিঘ্ন ঘটানো এবং কোনও ব্যক্তি ব্যক্তিগত কারণে গানে অংশ না নেওয়ার মধ্যে আইন কীভাবে পার্থক্য করবে, তা ভবিষ্যতে এই আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।