আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম ও ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর মতাদর্শ ও নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার এক গভীর চক্রান্তের পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে একটি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩ এবং কড়া ইউএপিএ (ইউটিলাইজেশন অফ অ্যান্টি-টেররিস্ট অ্যাক্ট) আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি-র একটি শাখা 'ইমাম মাহমুদ কাফিলা' (আইএমকে)-এর মাধ্যমে এই পুরো চক্রান্তটি চালানো হচ্ছিল। জেএমবি-র প্রবীণ সদস্য ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ভারতীয় ভূখণ্ডে এই চরমপন্থী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আইএমকে সংগঠনটি তৈরি করেছিল। এদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের যুবকদের মগজধোলাই করা, গোপনে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার চালানো এবং দেশের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজের জন্য নিজেদের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা।

এনআইএ জানিয়েছে, এই ১১ জন অভিযুক্ত ভারতের বুকে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গোপনে নানারকম গোপন বৈঠক করত। সেই সঙ্গে যুবকদের ধর্মীয় উগ্রপন্থা শেখানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে উস্কানিমূলক লিফলেট ও বইপত্র বিলি করা হতো। এমনকি ভারত-বিরোধী প্রচারের জন্য তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়াকেও হাতিয়ার করেছিল। এনআইএ-এর এই তদন্তের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা তাদের সেই ডিজিটাল জালও পুরোপুরি ধরা পড়ে গেছে।

এই চার্জশিটে নাম থাকা ১১ জনের মধ্যে দু'জন মূল পাণ্ডাকে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। এদের মধ্যে নাসিমুদ্দিন নামের একজন অসমে আইএমকে-র যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করছিল এবং জাকির মিয়া নামের অন্য এক অভিযুক্ত ত্রিপুরার দায়িত্বে ছিল। তদন্ত চলাকালীন এনআইএ এই চক্রের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আপত্তিকর নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করেছে, যা এই আসামিদের বিরুদ্ধে শক্ত মামলা সাজাতে সাহায্য করেছে। পুরো নেটওয়ার্কটিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এখনও তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।