আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের পারভানি জেলায় ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জেলার যশওয়াড়ি গ্রামে একটি হনুমান মন্দিরের নির্মীয়মাণ সভাকক্ষের একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে। আর তাতেই অন্তত পাঁচজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে এমনই জানা গিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। সপ্তাহান্ত বলে সকাল থেকেই হনুমান মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছিল। ঠিক সেই সময়ই সভাকক্ষের ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। একইসঙ্গে মন্দিরের একটি পিলারও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পুণ্যার্থীদের উপর। ঘটনার আকস্মিকতায় চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মুহূর্তেই তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় মানুষের মধ্যে। জানা গিয়েছে, ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন পুণ্যার্থী আটকে পড়েন।
ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ থেকে ১০ জন মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মন্দিরের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই মন্দিরের ওই সভাকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছিল। এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজের গুণমান এবং সুরক্ষাবিধি আদৌ মানা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করে তিনি লেখেন, "পারভানি জেলার যশওয়াড়ির হনুমান মন্দিরে নির্মীয়মাণ ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমরা শোকার্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা এখনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চলছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ ও আটকে পড়া ভক্তদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই তদন্ত শুরু করা হতে পারে।















