আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি এবছর প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা মন্থর। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে আবহাওয়াবিদদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী মাসগুলিতে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের কৃষিতে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য এই তীব্র আবহাওয়া পরিস্থিতিকে অনেক বিশেষজ্ঞ অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘গডজিলা এল নিনো’ বলেও উল্লেখ করছেন।


ভারতের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বর্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি চাষের জমি এখনও সেচের পরিবর্তে বর্ষার জলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মৌসুমি বৃষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিলে ধান, ডাল, তৈলবীজ, তুলো-সহ একাধিক খরিফ ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরণ বদলে যেতে পারে। ভারতে অনেক ক্ষেত্রেই শক্তিশালী এল নিনোর সঙ্গে দুর্বল বর্ষা ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতির সম্পর্ক দেখা গিয়েছে, যদিও প্রতিটি এল নিনো বছরের প্রভাব একরকম হয় না।


বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে কেন্দ্র সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। কৃষকদের জন্য বিকল্প ফসলের পরিকল্পনা, খরা-সহনশীল বীজের সরবরাহ, জল সংরক্ষণ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকেও স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষার অগ্রগতি আগামী কয়েক সপ্তাহে কেমন হয়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। যদি বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু কৃষিই নয়, জলাধারের জলস্তর, পানীয় জলের সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও বাড়তে পারে।

 

&t=4s
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, শুধুমাত্র এল নিনোর সম্ভাবনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী সপ্তাহগুলিতে সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং বর্ষার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেই আরও স্পষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ হল, সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন ও কৃষি দফতরের নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করা এবং স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষের পরিকল্পনা করা। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনাই সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।