আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম এবং নানাবিধ সমস্যা সত্ত্বেও চলতি বছরে উড়ান ক্ষমতা ৩০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে আকাসা এয়ার।
শুধু তাই নয়, আগামী চার-পাঁচ বছরে বার্ষিক ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যও স্থির করেছে তারা। এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন বিমানসংস্থার মুখ্য আর্থিক আধিকারিক (সিএফও) অঙ্কুর গোয়েল।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে যখন খরচ ক্রমশ বাড়ছে, তখন গোয়েল স্পষ্ট জানান, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় কোনও বদল আসছে না।
আকাসা এয়ারের সিএফও-র কথায়, ‘‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার কোনও প্রশ্নই নেই। আমাদের পরিকল্পনা এক্কেবারে সঠিক পথেই এগোচ্ছে।’’
গত বছরে আরও ১০টি নতুন বিমান যুক্ত করেছে এই সংস্থা। যার ফলে তাদের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ।
পুরোনো বা ভাড়া করা বিমানের পথে না হেঁটে, সম্পূর্ণ নতুন বিমান নিয়ে ওড়ার যে ছক সংস্থাটি কষেছিল, তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কের ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে পেরেছে তারা।
বর্তমানে আকাসা এয়ার তাদের মোট ক্ষমতার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করছে। এই মুহূর্তে দেশের ২৭টি এবং বিদেশের ৭টি গন্তব্যে উড়ান চালাচ্ছে এই সংস্থা।
২০২৬ সালে বিমানসংস্থার জন্য একটি ‘সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করে অঙ্কুর গোয়েল জানান, এই সময়ে আকাসা এয়ারের আর্থিক অবস্থার যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনই লোকসানের বহরও অনেকটাই কমেছে।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে চড়া জ্বালানি দর এবং সামগ্রিক বিমান শিল্পের মন্দার মধ্যেও এই সাফল্য এসেছে। বিমানের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোয়েল মেনে নিয়েছেন যে, বিমান সংস্থাগুলি এখন অভূতপূর্ব চাপের মুখে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে, এই সমস্যা সাময়িক।
আকাসা এয়ারের ২০২৬ সালে দুর্দান্ত ফলাফলের পরই এই মন্তব্যগুলি সামনে এসেছে। এই সময়ে সংস্থার পরিচালন আয় ৩৭ শতাংশ এবং উড়ান ক্ষমতা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
সম্প্রতি নতুন করে তহবিল সংগ্রহের ফলে সংস্থার আর্থিক ভিত যে আরও মজবুত হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গোয়েল জানান, এই নতুন পুঁজি আসার ফলে আকাসা এয়ারের হাতে নগদ টাকার জোগান বেড়েছে, যা বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের মূল লক্ষ্য হল পর্যাপ্ত পুঁজি হাতে রাখা। বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মতো যথেষ্ট রসদ আমাদের রয়েছে।’’
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সংস্থাটি যেমন আন্তর্জাতিক উড়ান বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে, তেমনই এই বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতেও মরিয়া। ২০৩২ সালের মধ্যে মোট ২২৬টি বিমান তৈরির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আকাসা এয়ার। সেই লক্ষ্যে পাইলট নিয়োগ-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের এই ডামাডোলের মধ্যেও, প্রায় চার বছর ধরে বাজারে থাকা এই বিমানসংস্থাটি জানিয়েছে যে তাদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে। বাজারের ধারাবাহিক চাহিদা এবং নিজেদের কৌশলের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব।















