আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। এ বার সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র। এখন থেকে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (জেইই) এবং নিট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে ৫০ শতাংশ গুরুত্ব বা ওয়েটেজ দেওয়া হতে পারে। এমনই একটি প্রস্তাব বিবেচনা করা দেখা হচ্ছে সরকারি তরফে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
বর্তমানে এই পরীক্ষাগুলিতে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বরের উপর নির্ভর করে। একটিমাত্র পরীক্ষার উপর ভিত্তি করেই পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। যার ফলে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়। সেটা যেমন বোর্ড পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য তেমনি মেডিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকার ক্ষেত্রেও।
বিগত বছরগুলি থেকে ক্রমাগত সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, মূল্যায়নের ত্রুটি-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসছে। যার জেরে দেশের সামগ্রিক পরীক্ষাকাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্র। তাই বর্তমানে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তির জন্য যে ভাবে শুধুমাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হত। এ বার বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনা কেন্দ্রের।
পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রকের দ্বারা গঠিত নয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। গত বছর গঠিত এই কমিটির মূল কাজ—
১। প্রবেশিকা পরীক্ষার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত কোচিং নির্ভরতা কমানো।
২। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা 'ডামি স্কুল'-এর রমরমা বন্ধ করা।
৩। উচ্চস্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
কমিটির সুপারিশ, প্রবেশিকা পরীক্ষার সিলেবাস স্কুলের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।















