আজকের দ্রুতগতির জীবনে পড়াশোনা ও কাজের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মধ্যে যদি পড়ার ঘর বা হোম অফিস পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হয়, তাহলে মনোযোগ বাড়ে, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ও কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, পড়াশোনা ও কাজের জায়গা যদি সঠিক নিয়ম মেনে সাজানো হয়, তবে সেখানে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ তৈরি হয় এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
2
10
বাস্তুশাস্ত্র মূলত প্রাকৃতিক শক্তির সঙ্গে বসবাসের স্থানকে সামঞ্জস্য করার একটি প্রাচীন শাস্ত্র। পড়ার ঘর বা হোম অফিসে বাস্তুর নীতি প্রয়োগ করলে মনোযোগ বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত হয় এবং মানসিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে। পাশাপাশি, এমন একটি পরিবেশ মানসিক স্বস্তি ও পেশাগত স্থিতিশীলতাও এনে দেয় বলে মনে করেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।
3
10
বাস্তু মতে, পড়ার ঘর বা হোম অফিসের দিকনির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর বা পূর্বদিকে মুখ করা ঘরে পড়াশোনা বা কাজ করা সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়। পূর্বদিকে মুখ করে পড়াশোনা করলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে বলে বিশ্বাস করা হয়। অন্যদিকে, উত্তরমুখী কর্মস্থল পেশাগত উন্নতি ও আর্থিক অগ্রগতির জন্য সহায়ক।
4
10
বাড়ির কোন অংশে পড়ার ঘর রাখা হবে, সেটিও বাস্তুর দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। শোওয়ার ঘরের সঙ্গে পড়ার ঘর একত্রে না রাখাই ভালো, যাতে বিশ্রাম ও কাজের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা বজায় থাকে। সিঁড়ির নিচে পড়ার ঘর রাখা একেবারেই অনুচিত বলে মনে করা হয়, কারণ এতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং মনোযোগ ব্যাহত হয়। বাড়ির একটি শান্ত ও নিরিবিলি কোণই পড়াশোনা বা অফিসের কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
5
10
পড়ার ঘরে বসার জায়গার দিকও বিশেষ গুরুত্ব পায়। পড়াশোনা বা কাজের সময় পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়ে বসা ভালো। এতে সতর্কতা ও ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে। চেয়ারের পিছনে শক্ত দেওয়াল থাকা জরুরি, যা শিক্ষা ও কর্মজীবনে স্থায়িত্ব এবং সমর্থনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
6
10
রঙের ক্ষেত্রেও বাস্তুশাস্ত্র কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশ দেয়। হালকা নীল, সবুজ, বেইজ বা অফ-হোয়াইটের মতো শান্ত রঙ পড়ার ঘরের জন্য উপযোগী। গাঢ় বা অত্যধিক উজ্জ্বল রঙ এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলি অস্থিরতা বাড়াতে পারে। পরিষ্কার ও মিনিমাল সাজসজ্জা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
7
10
আলো ব্যবস্থা পড়ার ঘর বা হোম অফিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক আলোকে সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়, তাই জানালা দিয়ে যতটা সম্ভব দিনের আলো ঢোকানোর ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত কৃত্রিম আলোও থাকা দরকার, যাতে কাজের জায়গা অন্ধকার না থাকে। অপর্যাপ্ত আলো মনোযোগ ও কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। বাস্তু মতে, কাজের টেবিল সবসময় পরিষ্কার ও গোছানো রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমে থাকলে মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্র উত্তর বা পূর্ব দিকের কোণে রাখলে কাজের দক্ষতা বাড়ে বলে বিশ্বাস করা হয়।
8
10
আসবাবপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বাস্তুর নির্দেশ রয়েছে। কাঠের আসবাব ব্যবহার করাই শ্রেয়, কারণ এটি প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্ভব হলে ধাতব আসবাব এড়িয়ে চলা ভালো। একই সঙ্গে আরামদায়ক চেয়ার ও সঠিক ভঙ্গিতে বসার ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে শারীরিক স্বস্তি দেয়।
9
10
পড়ার ঘরে গাছপালা রাখলে পরিবেশ আরও সতেজ হয়। মানি প্ল্যান্ট বা বাঁশের মতো ইনডোর গাছ ইতিবাচক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে ছোট জলপাত্র রাখলে পরিবেশে শুভ শক্তির প্রবাহ বাড়ে বলেও বাস্তুশাস্ত্রে উল্লেখ আছে। বাস্তু মতে, পড়ার ঘরের দরজা যেন বাড়ির মূল প্রবেশপথ থেকে সরাসরি দেখা না যায়। এতে বাইরের ব্যাঘাত কম হয় এবং কাজের উপর মনোযোগ বজায় থাকে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তুশাস্ত্র মেনে সাজানো পড়ার ঘর বা হোম অফিস শুধু কাজের দক্ষতা বাড়ায় না, বরং মানসিক শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথও প্রশস্ত করে। সামান্য কিছু পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে পড়াশোনা ও কাজের জায়গাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করে তোলা সম্ভব।