বৃষ্টি আর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রবিবাসরীয় ধর্মতলার রাজপথ ভাসল লাল তারা ও স্বেত পতাকার জনসমুদ্রে। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ডিওয়াইএফআই-এর ডাকে আয়োজিত ‘ইনকিলাব’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজপথে আছড়ে পড়ে হাজার হাজার ছাত্র-যুবর ক্ষোভ।
2
9
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে মহানগরী। সমাবেশ থেকে সুর চড়িয়ে বাম যুবনেতারা স্পষ্ট বার্তা দেন, যুবসমাজের অদম্য শক্তিকে খাটো করে দেখলে শাসক ভুল করবে; ভাগাভাগির রাজনীতি করে এবং মানুষের রুটি-রুজির ওপর আক্রমণ নামিয়ে কোনও সরকারই বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।
3
9
ধর্মতলার এই উত্তাল সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরী, মীনাক্ষী মুখার্জি এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডিওয়াইএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে যুবসমাজ যখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে, তখনই বড় বড় শাসকের ভিত নড়ে গেছে।
4
9
রাজ্যে বর্তমান বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থান তৈরি না করে উল্টে মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পুনর্বাসন ছাড়াই হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
5
9
১০০ দিনের বদলে ২০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার জোরালো দাবি তোলেন তিনি। হিমগ্নরাজ আরও বলেন, ছাত্র-যুবদের আন্দোলন দেখে শাসক এতটাই আতঙ্কিত যে প্রতিবাদীদের এখন ‘দিমাগী নকশাল’ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে গণআন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
6
9
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার মনে করিয়ে দেন, এই লড়াই রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাকে রক্ষা করার লড়াই। তিনি বলেন, যেখানে একের পর এক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা দিনের পর দিন রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন, সেখানে বিজেপির এই জনবিরোধী নীতির হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে বৃহত্তর সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
7
9
অন্যদিকে, রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভগৎ সিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে নওজোয়ান ভারত সভার শতবর্ষ উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোচবিহারে তাঁদের ‘যুবশক্তি’র কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা হলেও প্রতিরোধ গড়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে কীভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হয়।
8
9
প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসার বাংলা গড়ার ডাক দিয়ে তিনি রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের শোচনীয় দশার তীব্র সমালোচনা করেন। ধ্রুবজ্যোতি অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জি অতীতে ৮ হাজার স্কুল বন্ধ করেছিলেন, আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মাথায় আরও ৪ হাজার স্কুল বন্ধের কথা বলছে।
9
9
সরকারি স্তরে নিয়োগ বন্ধ এবং শিল্পের খরা রুখতে ছাত্র-যুব সমাজকেই রাস্তায় নেমে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ধর্মতলার এই সমাবেশ যেন সেই লড়াইয়েরই এক শক্তিশালী শপথ হয়ে উঠল।