বৃহস্পতিবার দালাল স্ট্রিটে ফের বড়সড় ধস নামল। বিশ্বের অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের দামের লাফ এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে ঘিরে উদ্বেগ—এই তিনের চাপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র বিক্রির প্রবণতা দেখা যায়।
2
6
সকালবেলায় লেনদেন শুরু হতেই সেনসেক্স ১,৮৪৭.৭৯ পয়েন্ট বা ২.৪১% পড়ে ৭৪,৮৫৬.৩৪-এ নেমে আসে। একইসঙ্গে নিফটি ফিফটি ৫৬৬.১০ পয়েন্ট বা ২.৩৮% কমে দাঁড়ায় ২৩,২১১.৭০-এ। বাজারে এই পতনের জেরে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদ প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা কমে গেছে বলে অনুমান।
3
6
এই ধসের মূল কারণগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় হল তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, টাকার মান কমে এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভের মার্জিনে চাপ পড়ে—যার প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারে।
4
6
এদিকে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক হঠাৎ করে পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগ বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি কিছু “নৈতিকতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ” বিষয়ের কথা উল্লেখ করে পদ ছাড়েন। এর ফলে ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ৫% পড়ে ৮০০ টাকার কাছাকাছি নেমে আসে, যা সূচক পতনের অন্যতম বড় কারণ।
5
6
শুধু ব্যাঙ্কিং নয়, প্রায় সব সেক্টরেই বিক্রির চাপ দেখা গেছে। অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বাড়ায় অ্যাভিয়েশন কোম্পানি ইন্ডিগোর শেয়ারও ৩% এর বেশি কমেছে। প্রতিরক্ষামূলক স্টক যেমন আইটিসি এবং হিন্দুস্থান ইউনিলিভার তুলনামূলকভাবে কম পড়লেও চাপ থেকে মুক্ত ছিল না।
6
6
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেলের দামের ওঠানামা আগামী দিনে বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। যদিও হঠাৎ করে পরিস্থিতি শান্ত হলে তেলের দাম কমে গিয়ে বাজারে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।