টানা ছয় সপ্তাহ ধরে পতনের মুখে ভারতীয় শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহে প্রধান সূচকগুলি প্রায় ০.৫% কমে গেছে। বিশ্বের ও দেশীয় নানা অনিশ্চয়তা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র উত্থান বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে নেতিবাচক করে তোলে। এর ফলে বাজারে ব্যাপক বিক্রি দেখা যায়।
2
9
তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। রাজনৈতিক উদ্বেগ কিছুটা কম এবং তেলের দামে সাময়িক নরম ভাব বাজারে স্বস্তি আনে। কিন্তু এই পুনরুদ্ধার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
3
9
বিশ্বের অস্থিরতা, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি, দুর্বল টাকা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে। সপ্তাহ শেষে নিফটি ২২,৭১৩.১০ এবং সেনসেক্স ৭৩,৩১৯.৫৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়।
4
9
আরবিআই এমপিসি বৈঠক: ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআই মুদ্রানীতি কমিটির নতুন অর্থবর্ষের প্রথম বৈঠক ৬ থেকে ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সুদের হার বা নীতিগত অবস্থান নিয়ে কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে বাজারে জোর জল্পনা চলছে।
5
9
মার্কিন-ইরান সংঘাত: এই সংঘাত এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে পড়তে চলেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরান দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে বলে খবর। অন্যদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান যদি চুক্তিতে না আসে, তবে আরও বড় আঘাত হানা হবে। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
6
9
অপরিশোধিত তেলের দাম: স্ট্রেইট অফ হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার, সেখানে এখন ৫০% এর বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। তেলের এই উত্থান ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে।
7
9
টাকার ওঠানামা: ভারতীয় টাকা বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়েছে। সপ্তাহের এক দিনে টাকা ১৫২ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৩.১৮-এ বন্ধ হলেও সামগ্রিকভাবে মুদ্রার দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফরেক্স বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চাপ বজায় রয়েছে।
8
9
এফআইআই বিক্রি: মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন। প্রায় ১.২২ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে তারা বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ভারতীয় বাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যাচ্ছে।
9
9
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, তেলের দাম, মুদ্রার অস্থিরতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে ভারতীয় শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আগামী দিনে আরবিআই -এর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বের পরিস্থিতির উন্নতি বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।