ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বাড়ার আশায় থাকা সাধারণ আমানতকারীদের জন্য বড় কোনও সুখবর এল না। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে আগামী দিনে ব্যাঙ্কগুলির FD সুদের হারেও বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2
11
৩ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা তিন দিনের বৈঠকের পর RBI-এর মনিটারি পলিসি কমিটি রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা, পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য সংক্রান্ত সমস্যা এবং পণ্যের দামের ওঠানামার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে।
3
11
গভর্নরের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন শিল্পের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, পরিষেবা ক্ষেত্রের উন্নতি এবং রপ্তানির ভাল পারফরম্যান্স অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করছে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
4
11
RBI রেপো রেট না বাড়ানোর ফলে ব্যাঙ্কগুলিও এখনই FD-এর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সুদের হার কিছুদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
5
11
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, RBI-এর এই সিদ্ধান্ত FD সুদের হারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত এক থেকে তিন বছরের মেয়াদের FD-তে প্রায় ৬.৬ শতাংশ থেকে ৬.৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে একই মেয়াদের FD-তে সুদের হার প্রায় ৬.৪ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
6
11
অর্থাৎ, যারা FD-তে টাকা রাখার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আপাতত বর্তমান সুদের হারেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ভবিষ্যতে RBI-এর নীতিতে পরিবর্তন এলে বা ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের মতো করে সুদের হার সংশোধন করলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
7
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বেশি সুদের আশায় অপেক্ষা না করে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কাজে লাগানো উচিত। একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা একটি FD-তে না রেখে অন্য ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
8
11
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি পাঁচ লক্ষ টাকা FD করতে চান, তাহলে পুরো টাকা পাঁচ বছরের জন্য না রেখে এক বছর, দুই বছর, তিন বছর এবং পাঁচ বছরের মতো বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে রাখতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়লে নতুন FD করার সুযোগও থাকে।
9
11
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, FD বেছে নেওয়ার সময় শুধুমাত্র ঘোষিত সুদের হার দেখলে চলবে না। প্রকৃত লাভ হিসাব করতে হবে কর এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনা করে।
10
11
FD-এর সুদের উপর আয়কর প্রযোজ্য হয়। ফলে উচ্চ সুদের হার থাকলেও কর কাটার পর প্রকৃত রিটার্ন কমে যেতে পারে। একইসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি হলে টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাও কমে।
11
11
সব মিলিয়ে বলা যায় আরবিআই-র সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত FD বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েছে। সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা আপাতত কম থাকলেও বর্তমান হার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করা এবং কর ও মুদ্রাস্ফীতির বিষয় মাথায় রাখা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।