ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। খুব শীঘ্রই বাজারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে প্লাস্টিকের নোট। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এই উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছে।
2
11
প্রথম পর্যায়ে ১০ টাকা ও ২০ টাকার পলিমার নোট নিয়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই নতুন ধরনের নোট এটিএম থেকে কীভাবে পাওয়া যাবে? পুরনো এটিএম মেশিন কি বদলাতে হবে? অবশেষে এই বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে আরবিআই।
3
11
সূত্র অনুযায়ী, আরবিআই তাদের বহুদিনের পরিকল্পনা আবার শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পলিমার উপাদান কেনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার জারি করেছে।
4
11
এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ধরনের নোট ছাপানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও আরবিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি যে কবে থেকে এই নোট বাজারে আসবে, তবে জানা যাচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার নোট দিয়েই প্রথম ট্রায়াল শুরু হতে পারে।
5
11
অনেকের ধারণা, প্লাস্টিকের নোট চালু হলে এটিএম মেশিনে বড় ধরনের পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু আরবিআই-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমন কোনও প্রয়োজন হবে না। নতুন পলিমার নোট এমনভাবেই তৈরি করা হবে যাতে বর্তমানে ব্যবহৃত এটিএম, ক্যাশ কাউন্টার এবং টাকা গোনার মেশিনে তা সহজেই ব্যবহার করা যায়।
6
11
অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে নতুন নোট তুলতে আলাদা কোনও ব্যবস্থা করতে হবে না। যে এটিএম থেকে এখন টাকা তোলা হয়, সেখান থেকেই ভবিষ্যতে পলিমার নোট পাওয়া যাবে।
7
11
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পলিমার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট বাতিল করা হবে না। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, কাগজের নোট এবং পলিমার নোট—দুই ধরনের মুদ্রাই একই সঙ্গে বাজারে চলবে। ফলে পুরনো ১০ টাকা বা ২০ টাকার নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও চিন্তার কারণ নেই।
8
11
পলিমার নোট সাধারণ কাগজ দিয়ে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয় বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক ফিল্ম বা পলিমার সাবস্ট্রেট দিয়ে। বিশ্বের অনেক দেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই ধরনের নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় বেশি মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে নষ্ট হয় না।
9
11
পলিমার নোট তৈরির পদ্ধতিও সাধারণ নোটের থেকে আলাদা। প্রথমে একটি বিশেষ পলিমার শিট তৈরি করা হয়। এরপর সেই শিটের ওপর নোটের নকশা, মূল্যমান, প্রতীক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছাপানো হয়। নোটকে আরও সুরক্ষিত করতে এতে স্বচ্ছ উইন্ডো, বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্ন এবং জাল নোট প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়।
10
11
মুদ্রণ শেষ হওয়ার পর নোটের রং ও ডিজাইন দীর্ঘদিন অক্ষত রাখতে বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক আবরণ দেওয়া হয়। এরপর বড় আকারের শিট কেটে ছোট ছোট নোট তৈরি করা হয়। সবশেষে প্রতিটি নোটের গুণমান পরীক্ষা করা হয়, যাতে এটিএম, টাকা গোনার মেশিন এবং সাধারণ লেনদেনে কোনও সমস্যা না হয়।
11
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোট চালু হলে নোটের স্থায়িত্ব বাড়বে, জাল নোট তৈরি করা কঠিন হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ খরচও কমতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের হাতে এই নতুন নোট পৌঁছতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। আরবিআই-র পরীক্ষামূলক পর্যায় সফল হলে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পলিমার নোট ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।