সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় তৃপ্তি মেলে না, একা থাকলে সহজেই স্বস্তি—কেন এমন হয়? কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ : ২০
শেয়ার করুন
1
12
যৌনজীবনে একটা বিষয় অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর, সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরেও বীর্যপাত বা অর্গ্যাজম না হওয়া।
2
12
অথচ একা থাকলে, স্বমেহন বা মাস্টারবেশনের সময়, একই মানুষের অর্গ্যাজমে পৌঁছতে তুলনামূলক কম সময় লাগে। এমন অভিজ্ঞতা কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। এর পিছনে রয়েছে শরীরের পাশাপাশি মনেরও বেশ কিছু কারণ।
3
12
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অনেক নারীর ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের তুলনায় স্বমেহনের সময় অর্গ্যাজমে পৌঁছনো সহজ হতে পারে।
4
12
এর অন্যতম কারণ, একা থাকার সময় নিজের শরীরকে নিজের মতো করে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
5
12
একা থাকার সময় কোন ধরনের স্পর্শ ভাল লাগছে, কতটা চাপ বা গতি স্বস্তিদায়ক, কখন একটু থামতে হবে, এই বিষয়গুলি একজন নিজেই সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারেন। ফলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
6
12
কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সময় বিষয়টি একটু আলাদা। দু'জন মানুষের পছন্দ ও অনুভূতি একরকম নাও হতে পারে। সঙ্গী হয়তো বুঝতেই পারছেন না ঠিক কোন ধরনের স্পর্শে বেশি স্বস্তি বা আনন্দ হচ্ছে। ফলে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থাকলেও অর্গ্যাজমে পৌঁছতে সময় বেশি লাগতে পারে।
7
12
শুধু শরীর নয়, মনেরও একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সময় অনেকের মাথায় নানা চিন্তা ঘুরতে থাকে। ‘আমি ঠিকঠাক করছি তো?’, ‘সঙ্গী কী ভাবছেন?’, ‘আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?’, এই ধরনের চিন্তা স্বাভাবিক যৌন উত্তেজনাতেও বাধা তৈরি করতে পারে।
8
12
একা থাকার সময় এই চাপ থাকে না। নিজের দিকে মন দেওয়া যায়, কোনও তাড়াহুড়ো থাকে না। ফলে শরীরও অনেক বেশি স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিতে পারে।
9
12
একা থাকলে অর্গ্যাজম সহজ হচ্ছে, কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে হচ্ছে না—এর মানেই সম্পর্কের সমস্যা বা সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ কম, এমন নয়। দু'টি পরিস্থিতিতে শরীর ও মনের প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে।
10
12
বরং নিজের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোন ধরনের স্পর্শ ভালো লাগে বা কোন বিষয় অস্বস্তিকর, সেটা জানালে দু'জনের মধ্যে বোঝাপড়াও বাড়তে পারে।
11
12
মাঝে মধ্যে অর্গ্যাজম না হওয়া নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের যৌন অভিজ্ঞতা আলাদা। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে এবং তার কারণে মানসিক অস্বস্তি বা সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হলে চিকিৎসক বা যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।
12
12
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, যৌনজীবনে ‘স্বাভাবিক’ বলে কোনও একটাই নিয়ম নেই। কারও ক্ষেত্রে অর্গ্যাজম দ্রুত আসে, কারও ক্ষেত্রে সময় লাগে। কেউ একা থাকলে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, আবার কারও কাছে সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই বেশি আনন্দের। নিজের শরীরকে বোঝা এবং সঙ্গীর সঙ্গে ভালো যোগাযোগ, সুস্থ যৌনজীবনের ক্ষেত্রে দু'টিই গুরুত্বপূর্ণ।