দূর মহাকাশে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির প্রান্তসীমায় অবস্থিত এক বিস্ময়কর গ্রহমণ্ডল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১১৬ আলোকবর্ষ দূরে থাকা লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে রয়েছে চারটি গ্রহ।
2
9
কিন্তু এদের বিন্যাস প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণার সঙ্গে মেলে না। সাধারণত নক্ষত্রের একেবারে কাছাকাছি থাকে শিলাময় বা পাথুরে গ্রহ, আর তার পরে অবস্থান করে গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলো। আমাদের সৌরজগতেও আমরা এমনটাই দেখি।
3
9
এই অস্বাভাবিক বিন্যাস আবিষ্কার করেছে এক আন্তর্জাতিক গবেষক দল। তারা পর্যবেক্ষণ চালায় ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির টেলিস্কোপের মাধ্যমে।
4
9
এটি একটি শীতল ও অল্প আলোকসম্পন্ন লাল বামন নক্ষত্র। প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, নক্ষত্রের কাছাকাছি অঞ্চলে তীব্র বিকিরণের কারণে হালকা গ্যাস উড়ে যায়, আর ভারী ধূলিকণা ও শিলাময় উপাদান জমে তৈরি হয় পাথুরে গ্রহ।
5
9
আমাদের সৌরজগতের বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল এমনভাবেই গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে দূরের অঞ্চলে জমে থাকা গ্যাস থেকে সৃষ্টি হয় বৃহৎ গ্যাসীয় গ্রহ।
6
9
গবেষণার প্রধান লেখক থমাস উইলসন যিনি ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারইউকের সঙ্গে যুক্ত, বলেন, “এই অদ্ভুত বিশৃঙ্খলা একে একটি অনন্য ‘ইনসাইড-আউট’ সিস্টেমে পরিণত করেছে। সাধারণত গ্যাসীয় গ্রহগুলোর বাইরের দিকে পাথুরে গ্রহ গঠিত হয় না।”
7
9
প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, হয়তো গ্রহগুলো কোনও এক সময় নিজেদের কক্ষপথ বদলেছে, অথবা শেষের গ্রহটি পরবর্তীতে তার গ্যাসীয় আবরণ হারিয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ব্যাখ্যাগুলো যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
8
9
এখানে একসঙ্গে চারটি গ্রহ সৃষ্টি করেনি। বরং একটির পর একটি, ভেতর থেকে বাইরের দিকে ক্রমান্বয়ে গ্রহগুলোর জন্ম হয়েছে। প্রতিটি গ্রহ তার আশপাশের ধূলিকণা ও গ্যাস সংগ্রহ করে বড় হয়েছে, আর বাইরের অঞ্চল অপেক্ষা করেছে পরবর্তী গ্রহ সৃষ্টির জন্য।
9
9
এই প্রক্রিয়ায় যখন চতুর্থ বা সর্বশেষ গ্রহটির জন্মের পালা আসে, তখন আশপাশের গ্যাস প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে সেটি গ্যাসীয় দানবে পরিণত না হয়ে পাথুরে গ্রহ হিসেবেই রয়ে যায়। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের গ্রহ গঠনের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এটি কি কেবল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, নাকি গ্রহ সৃষ্টির এক নতুন পদ্ধতির ইঙ্গিত—তা জানতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।