ফিলিপাইন সাগর থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া শক্তিশালী টাইফুন জাংমি মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে গিয়ে ব্যাপক ভয় তৈরি করেছে।
2
10
ঝড়টির জেরে ইতিমধ্যেই জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে একাধিক এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
3
10
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, সুয়োমি এনপিপি উপগ্রহে থাকা ভিআইআইআরএস যন্ত্র ৩০ মে রাতে ঝড়টির একটি অসাধারণ ছবি তোলে। ওই সময় টাইফুন জাংমির কেন্দ্রে ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাস বইছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের হিসাবে এটি সাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি-১ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।
4
10
উপগ্রহ চিত্রে ঝড়টির বিশাল ‘আই’ বা চোখ এবং তার চারপাশের ‘আইওয়াল’-এর স্পষ্ট দৃশ্য ধরা পড়ে। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক আবহাওয়াবিদ স্কট ব্রাউনের মতে, টাইফুনটির চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বড় আকারের ছিল।
5
10
এছাড়া ঝড়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে একটি ‘মেসোসাইক্লোন’ নামের বিশেষ আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যও দেখা যায়, যদিও সেটি আংশিকভাবে ওপরের দিকের মেঘে ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের বৈশিষ্ট্য শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।
6
10
এর একদিন পরে, অর্থাৎ নোয়া উপগ্রহ একই ঝড়ের আরও একটি বিরাট ছবি তোলে। তখন জাংমি আরও কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস সৃষ্টি করছিল।
7
10
যদিও ঝড়টির কেন্দ্র তখনও ওকিনাওয়া দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থান করছে। তার বাইরের মেঘ ও বৃষ্টি ইতিমধ্যেই স্থলভাগে পৌঁছে নিজের খেলা দেখাচ্ছে।
8
10
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাংমি ওকিনাওয়ার খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করে ১ থেকে ২ জুনের মধ্যে আমামি অঞ্চলের দিকে উত্তর-পূর্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর ফলে দক্ষিণ জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বর্ষণ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।
9
10
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, টাইফুনের মূল বিপদ কেবল তার প্রবল বাতাস নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত। জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
10
10
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে, ফলে এধরনের ঝড় ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।