সূর্য আমাদের সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র। পৃথিবীতে আলো ও তাপের প্রধান উৎস এই নক্ষত্রকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। তবুও সূর্যের এমন কিছু রহস্য রয়েছে, যার সম্পূর্ণ সমাধান আজও মেলেনি।
2
10
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাঁধাগুলোর একটি হল সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা কেন তার পৃষ্ঠের তুলনায় অনেক বেশি গরম। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তারা কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না।
3
10
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সূর্যের পৃষ্ঠ, যাকে ফটোস্ফিয়ার বলা হয়, তার তাপমাত্রা প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই স্তরের উপরে অবস্থিত সূর্যের বহিরাবরণ করোনা বা বাইরের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ১০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। সাধারণ যুক্তিতে তাপের উৎস থেকে যত দূরে যাওয়া হয়, তাপমাত্রা তত কমার কথা। কিন্তু সূর্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো ঘটনা।
4
10
এই অস্বাভাবিক ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা “করোনাল হিটিং প্রবলেম” নামে অভিহিত করেন। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মহাকাশ সংস্থা এই রহস্যের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। যদিও কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, এখনও পর্যন্ত কোনও তত্ত্বই পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।
5
10
একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব হল সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের ভূমিকা। সূর্যের ভেতরে গরম প্লাজমার প্রবাহের কারণে শক্তিশালী ও জটিল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই চৌম্বক ক্ষেত্র মাঝে মাঝে হঠাৎ ভেঙে বা পুনর্গঠিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই শক্তি করোনাকে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারে।
6
10
আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল “আলফভেন তরঙ্গ”। এগুলি বিশেষ ধরনের চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা সূর্যের অভ্যন্তর থেকে বাইরের দিকে শক্তি বহন করে নিয়ে যায়।
7
10
গবেষকদের ধারণা, এই তরঙ্গগুলি করোনায় পৌঁছে তাদের শক্তি ছড়িয়ে দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর এবং একাই কি করোনার তাপমাত্রা ব্যাখ্যা করতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
8
10
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা সূর্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মিশন সূর্যের করোনা অঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠাচ্ছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র, প্লাজমার গতি এবং শক্তি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা পাচ্ছেন।
9
10
করোনার অতিরিক্ত তাপমাত্রার রহস্য সমাধান করা শুধু সূর্যকে বোঝার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মহাকাশ আবহাওয়া সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দিতেও সাহায্য করবে। সূর্যের অগ্ন্যুৎপাত বা সৌরঝড় পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং জিপিএস পরিষেবার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
10
10
তাই সূর্যের করোনা কেন এত গরম, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, ভবিষ্যতের গবেষণা ও মহাকাশ মিশনের মাধ্যমে একদিন এই দীর্ঘদিনের রহস্যের পূর্ণ সমাধান মিলবে।