ছিলেন হরিহর আত্মা, 'বেস্ট ফ্রেন্ড'-এর মৃত্যুর আট মাস পরেই প্রয়াত অভিনেতা, নানা-অজিতের বন্ধুত্বের স্মৃতি অমলিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ : ০৭
শেয়ার করুন
1
12
একদিকে বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব। অজিত পওয়ারের মৃত্যুর কয়েক মাস পর এবার নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণ সেই পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিই ফিরে আসছে।
2
12
অজিত পওয়ারের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। আর প্রায় আট মাসের ব্যবধানে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন নানা পাটেকর।
3
12
অজিতের মৃত্যুর পর নানা নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং অজিত ছিলেন তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ।
4
12
অজিতের বয়স যখন মাত্র ১৯-২০ বছর সেই সময় থেকে চিনতেন নানা৷ তখনও অজিত পাওয়ার রাজনীতির প্রথম সারির নেতা নন, দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকেই নানার সঙ্গে পরিচয় এবং ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
5
12
অজিতের মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর তাঁকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড 'ছোট ভাই'-এর মতো বলে উল্লেখ করেছিলেন। অভিনেতার কথায়, অজিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত।
6
12
নানা জানিয়েছিলেন, অজিতের চলে যাওয়া তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারানো নয়। তিনি হারিয়েছিলেন নিজের খুব কাছের একজন মানুষকে।
7
12
অজিত পওয়ার ছিলেন মহারাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কিন্তু নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনীতি ছিল না, তাঁদের বন্ধুত্বের মধ্যে ছিল আন্তরিকতা এবং সখ্য৷
8
12
অজিতের মৃত্যুর পর নানা পাটেকরের ছেলে মালহার পাটেকর কিছু পুরনো ছবি প্রকাশ্যে আনেন। সেই ছবিগুলিতে অজিতকে নানা পাটেকর এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। ছবিগুলি নানার পুনের ফার্মহাউসের বলে জানা যায়। সেখানে প্রায়শই যেতেন অজিত পাওয়ার। পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া, গল্প করা, এভাবেই ব্যক্তিগত সময় কাটাতেন তিনি।
9
12
অজিতের রাজনৈতিক সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা তাঁর দীর্ঘ পথচলার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। একজন তরুণ দলীয় কর্মী থেকে মহারাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার পথটিকে তিনি অসাধারণ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
10
12
অজিতের মৃত্যুর পর নানার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছিল পরিবারের কথা। তিনি বলেছিলেন, পওয়ার পরিবারের এই শোক ভাগ করে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের পাশে থাকা যায়, তাঁদের কষ্টের অংশ হওয়া যায়, কিন্তু কাছের মানুষ হারানোর সেই যন্ত্রণা অন্য কেউ সম্পূর্ণভাবে অনুভব করতে পারে না।
11
12
অজিত পওয়ারের মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস পর নানা পাটেকরের প্রয়াণ যেন সেই পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। একসময় অজিতের মৃত্যুতে যে অভিনেতা বন্ধুকে হারানোর কথা বলেছিলেন, এবার তাঁর নিজের চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ পওয়ার পরিবার।
12
12
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে নানা পাটেকর ও অজিত পওয়ারের বন্ধুত্বের কথা তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্দায় নানা ছিলেন শক্তিশালী অভিনেতা, আর রাজনীতির ময়দানে অজিত ছিলেন প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে সেই প্রভাব বা খ্যাতির পরিবর্তে ছিল নিখাদ বন্ধুত্ব ভরসা আর ভালবাসা৷