দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কানাডা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ইলন মাস্কের শিক্ষাজীবন মূলত এই তিন দেশেই সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তিনি এমন সব বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন যা পরবর্তীতে তাঁকে প্রযুক্তিবিদ হতে সহায়তা করেছিল। ক্রমেই তিনি সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। স্পেসএক্স ও টেসলা র মতো কোম্পানি গড়ে তোলার আগে মাস্ক পদার্থবিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন।
2
9
মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে কানাডায় পাড়ি জমান। তিনি অন্টারিও-র কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া'তে স্থানান্তরিত হন। ‘পেনস নলেজ অ্যাট হোয়ার্টন’-এর তথ্য অনুসারে, তিনি একটি একাডেমিক স্কলারশিপ নিয়ে কুইন্স ইউনিভার্সিটি ছেড়ে 'ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া'তে চলে যান।
3
9
'ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া'তে মাস্ক ‘স্কুল অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’-এ পদার্থবিজ্ঞান এবং ‘হোয়ার্টন স্কুল’-এ ব্যবসায়ী শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি তাঁর স্নাতক (আন্ডারগ্রাজুয়েট) পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ‘পেনস নলেজ অ্যাট হোয়ার্টন’-এ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণীতে পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি এবং হোয়ার্টন থেকে ব্যবসা বিষয়ক শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
4
9
বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার এই সমন্বয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে তিনি পরবর্তীতে যেসব শিল্পখাতে কাজ শুরু করেছিলেন তার নিরিখে। মাস্ক এরপর বৈদ্যুতিক যানবাহন, মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা গড়ে তোলেন।
5
9
মাস্ক কোনও ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি। 'ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া' ছাড়ার পর, ১৯৯৫ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। তাঁর পরিকল্পনা ছিল 'স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি'তে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু হওয়ার কথা ছিল ‘ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স’ বা পদার্থবিজ্ঞান-ভিত্তিক বস্তুবিজ্ঞান, যেখানে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য উচ্চ-শক্তির ঘনত্বের ক্যাপাসিটর-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
6
9
তবে, সেই সময়ে দ্রুত বিকাশমান ইন্টারনেট শিল্প তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পিএইচডি প্রোগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে মাস্ক ব্যবসায়িক সুযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৯৫ সালে ‘জিপ২’ কোম্পানিটি চালু করেন।
7
9
তাই, যদিও মাস্ককে প্রায়শই ‘স্ট্যানফোর্ড ড্রপআউট’ (স্ট্যানফোর্ড থেকে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তি) হিসেবে অভিহিত করা হয়, তবে তিনি আসলে 'স্ট্যানফোর্ড' থেকে কোনও ডিগ্রি অর্জন করেননি।
8
9
ডক্টরেট করার পরিকল্পিত পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তটি ব্যবসায়িক জগতে তাঁর উত্থানকে থামাতে পারেনি। পরবর্তীতে তিনি স্পেসএক্স ও টেসলার মতো কোম্পানির মাধ্যমে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন।
9
9
ফোর্বসের ‘রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার্স’ তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলন মাস্কের সম্পদের মোট মূল্য ছিল ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার।