এই শতাব্দীর শুরুর দিকের বেশিরভাগ তরুণীকে যদি জিজ্ঞেস করা হত ওঁর জীবনের অন্যতম সেরা ক্রাশ কে? অনেকেই সেই প্রশ্নের জবাবে বলতেন— ‘ম্যাডি’।
2
9
২০০১ সালে ‘রহে না হ্যায় তেরে দিল মে’ (রহেনা হ্যায় তেরি দিল মে) ছবিতে ওঁর সেই চকোলেট বয় লুক, বাইক নিয়ে এন্ট্রি আর এক গাল হাসিতেই লাখো তরুণীর মন জয় করে নিয়েছিলেন যিনি, তিনি আর কেউ নন— অভিনেতা আর মাধবন ।
3
9
আজ, ১ জুন ভারতীয় সিনেমার এই বহুমুখী প্রতিভাবান অভিনেতার জন্মদিন। দেখতে দেখতে জীবনের আরও একটি বছর পার করে ফেললেন তিনি। পেরিয়ে এলেন ৫৬টি বসন্ত। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত মাধবন শুধু একজন রোমান্টিক নায়ক-ই নন, বরং ওঁর পরিচালিত ছবি ‘রকেট্রি: দ্য নাম্বি এফেক্ট’ -এর মাধ্যমে একজন দক্ষ পরিচালক হিসেবেও নিজের জাত চিনিয়েছেন।
হিন্দি, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়ালম এবং ইংরেজি— একাধিক ভাষায় নিজের অভিনয়ের দাপট দেখানো এই অভিনেতার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক ওঁর জীবনের এমন ৫টি অজানা তথ্য, যা হয়তো ওঁর অন্ধ ভক্তরাও জানেন না।
4
9
১. হতে চেয়েছিলেন সেনা অফিসার!
সিনেমার দুনিয়ায় পা রাখার আগে আর মাধবনের প্রথম পছন্দ কিন্তু অভিনয় ছিল না। তিনি একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এনসিসি ক্যাডেট ছিলেন। ওঁর স্বপ্ন ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। একজন তুখোড় ক্যাডেট হিসেবে তিনি ইংল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ পান এবং সেখানে ব্রিটিশ আর্মি, রয়্যাল নেভি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তবে নিয়তির লিখন ছিল অন্য। মাত্র ৬ মাসের জন্য ওঁর বয়স ‘এজ কাট-অফ’ পার করে যাওয়ায় সেনাবাহিনীতে ওঁর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আর সেনা অফিসার না হতে পারার সেই আফসোসই আজ আমাদের ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ফারহান বা ‘রকেট্রি’র নাম্বি নারায়ণ উপহার দিয়েছে।
5
9
২. ইলেকট্রনিক্সে বিএসসি ডিগ্রি এবং টোকিওতে দেশের প্রতিনিধিত্ব
সেনাবাহিনীতে সুযোগ না পেয়ে মাধবন ইলেকট্রনিক্স নিয়ে বিএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি পাবলিক স্পিকিং বা জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার বিষয়ে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্যক্তিত্ব বিকাশ (Personality Development) এবং পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। শিক্ষক হিসেবে ওঁর এই দক্ষতার কারণেই ১৯৯২ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘ইয়ং বিজনেসম্যান কনফারেন্স’-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আর মাধবন।
6
9
৩. কট্টর নিরামিষাশী এবং পেটা (PETA)-র প্রিয়পাত্র
আজকালকার ফিটনেস ফ্রিক অভিনেতাদের মধ্যে অনেকেই নন-ভেজ ডায়েট পছন্দ করলেও, আর মাধবন কিন্তু একজন আপাদমস্তক নিরামিষাশী । তিনি পশু অধিকার রক্ষার একজন বড় সমর্থক। ২০০৬ সালে বন্যপ্রাণী ও পশুদের প্রতি ওঁর এই ভালবাসার কারণে পশুপ্রেমী সংস্থা ‘পেটা’ (PETA) ওনাকে ‘কিউটেস্ট মেল ভেজিটেরিয়ান’ খেতাব দিয়ে সম্মানিত করেছিল। কেরিয়ারের শুরু থেকেই তিনি পেটা-র বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
7
9
৪. সিনেমার আগে ছোট পর্দা কাঁপানো ও সেই ‘ট্যালকম পাউডার’-এর অ্যাড
মাধবন রাতারাতি সিনেমার হিরো হয়ে যাননি, ওঁর লড়াইটা শুরু হয়েছিল টেলিভিশনের ছোট পর্দা থেকে। ১৯৯৬ সালে একটি চন্দন সাবান ও ট্যালকম পাউডারের বিজ্ঞাপনে প্রথম ওঁর মুখ চেনে দর্শক। এরপর জি টিভিতে সেই সময়ের অসম্ভব জনপ্রিয় প্রাইম-টাইম ধারাবাহিক ‘বনেগি আপনি বাত’ -এ ওঁর চরিত্রটি দারুণ সাড়া ফেলে। তবে ছোট পর্দায় ওঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘সি হক’ ধারাবাহিকটি, যেখানে জাহাজের ক্যাপ্টেনের চরিত্রে ওঁর অভিনয় আজও অনেকে মনে রেখেছেন।
8
9
৫. পরিচালনার প্রথম ছবিতেই কান (Cannes) জয়!
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের মুকুটে নতুন পালক যোগ করে পরিচালক হিসেবে ডেবিউ করেন মাধবন। ইসরোর (ISRO) বিজ্ঞানী ও মহাকাশ প্রকৌশলী নাম্বি নারায়ণের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তিনি তৈরি করেন ‘রকেট্রি: দ্য নাম্বি এফেক্ট’। ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে পরিচালনা এবং নাম্বি নারায়ণের লুকে ওঁর অবিশ্বাস্য রূপান্তর সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল বিখ্যাত ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’-এ এবং ভারত সরকার এটিকে জাতীয় পুরস্কারেও সম্মানিত করেছে।
9
9
চকোলেট বয় ‘ম্যাডি’ থেকে শুরু করে আজকের পরিণত পরিচালক আর মাধবন— ওঁর এই যাত্রা প্রায় প্রতিটি সিনেপ্রেমীর কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। শুভ জন্মদিন আর মাধবন!