দুর্গাপুজোর আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ভক্তরা। বাংলায় এই তিথি কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো নামে পরিচিত। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনটি শারদ পূর্ণিমা বা কোজাগরী পূর্ণিমা হিসেবেও পালিত হয়।
2
7
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে দেবী লক্ষ্মীর পুজো করলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে। কিন্তু ২০২৬ সালে শারদ পূর্ণিমা কবে? ২৫ অক্টোবর, না কি ২৬ অক্টোবর? জেনে নিন তিথি, চন্দ্রোদয়ের সময় এবং পুজোর শুভ মুহূর্ত।
3
7
২০২৬ সালে শারদ পূর্ণিমা পালিত হবে ২৫ অক্টোবর, রবিবার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি দু’দিন ধরে থাকলেও নিশীথকালে পূর্ণিমা তিথি থাকার ভিত্তিতে ২৫ অক্টোবরই কোজাগরী পুজোর দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
4
7
শারদ পূর্ণিমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চন্দ্রদর্শন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৫ টা ১ এর পর থেকে ৬ টা ৩৭ এর মধ্যে পুজো করতে পারেন৷ পঞ্জিকা অনুযায়ী সময়টা শুভ৷
5
7
কোজাগরী পূর্ণিমায় নিশীথকালে দেবী লক্ষ্মীর পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়। কলকাতার সময় অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর নিশীথ পুজোর শুভ সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে পুজোর জন্য প্রায় ৫০ মিনিট পাওয়া যাবে।
6
7
শারদ পূর্ণিমার রাতে ক্ষীর তৈরি করে খোলা জায়গায় চাঁদের আলোয় রেখে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। পরদিন সেই ক্ষীর প্রসাদ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে চন্দ্রের আলো অমৃততুল্য। তাই চাঁদের আলোয় ক্ষীর রাখার রীতি প্রচলিত হয়েছে। তবে এই বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
7
7
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, শারদ পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী পৃথিবীতে বিচরণ করেন এবং জেগে থাকা ভক্তদের খোঁজ করেন। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থও ‘কে জেগে আছ?’ এই বিশ্বাস থেকেই অনেকে রাতে জেগে দেবীর আরাধনা করেন। বাড়িতে প্রদীপ জ্বালিয়ে, ফুল, ফল ও নৈবেদ্য দিয়ে দেবীর পুজো করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে পুজো করলে সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।