অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই কে ফোন করছেন, তা বোঝার জন্য আর নির্ভর করতে হবে না থার্ড পার্টি অ্যাপের উপর। এবার সরাসরি মোবাইলের স্ক্রিনেই দেখা যাবে ফোন করা ব্যক্তির নাম ও নম্বর।
2
12
এই উদ্দেশ্যে Calling Name Presentation পরিষেবা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দপ্তর। নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে দেশে এই পরিষেবা চালুর কথা। এর ফলে অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
3
12
কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ৪জি এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ ৫জি ব্যবহারকারীদের জন্য ডিফল্টভাবেই চালু থাকবে CNAP পরিষেবা। ফোন এলে স্ক্রিনে প্রথমে দেখা যাবে কলারের নম্বর।
4
12
এরপর দেখানো হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইন পরিষেবার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
5
12
নতুন এই ব্যবস্থায় ফোনের নম্বরটি যদি গ্রাহকের কনট্যাক্ট লিস্টে সেভ করা থাকে, তা হলে স্ক্রিনে সেই নম্বরের সঙ্গে সেভ করা নামই দেখা যাবে। কিন্তু নম্বরটি সেভ করা না থাকলে কী হবে?
6
12
সে ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে থেকে ফোন এলে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার গ্রাহক-তথ্যের ডেটাবেসে থাকা নাম দেখানো হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ফোন নম্বরের উপর নির্ভর না করেই কলারকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
7
12
আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন এলে স্ক্রিনে ‘International Call’ লেখা দেখানো হবে। ফলে বিদেশ থেকে আসা ফোন সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন গ্রাহকেরা।
8
12
CNAP পরিষেবা চালু করতে প্রতিটি টেলিকম সংস্থাকে গ্রাহকের নাম ও মোবাইল নম্বরের মধ্যে সংযোগ রেখে একটি ডেটাবেস তৈরি, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। যে সংস্থার গ্রাহক ফোন করছেন, সেখান থেকে নামের তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রাপকের মোবাইলে দেখানো হবে।
9
12
তবে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ফোন শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই পরিষেবার মাধ্যমে পাওয়া কলারের নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। পাশাপাশি, যাঁরা Calling Line Identification Restriction পরিষেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের নাম স্ক্রিনে দেখানো হবে না।
10
12
ব্যবসায়িক ও বাল্ক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নথিভুক্ত নামের পরিবর্তে পছন্দের ব্যবসায়িক নাম দেখানোর সুযোগ দিতে পারবে টেলিকম সংস্থাগুলি। তবে সেই নাম ট্রেড মার্কস রেজিস্ট্রিতে নথিভুক্ত ট্রেডমার্ক অথবা GST পোর্টালে নিবন্ধিত ব্যবসায়িক নাম হতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার পরই এই সুবিধা দেওয়া হবে।
11
12
গত কয়েক মাসে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এই পরিষেবার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে TRAI-ও CNAP নিয়ে সুপারিশ করেছিল।
12
12
পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ডিফল্টভাবে এই পরিষেবা চালুর প্রস্তাবে সম্মতি জানায় TRAI। এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কেন্দ্র। ফলে স্প্যাম ও প্রতারণামূলক ফোন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে CNAP কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।