চাকরিজীবী মানুষের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড। তবে অনেকেই জানেন না, এর সঙ্গে যুক্ত এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম শুধুমাত্র অবসরের পর পেনশন দেওয়ার জন্য নয়, সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।
2
13
তাই একজন সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার কী ধরনের পেনশন সুবিধা পেতে পারে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেকের ধারণা, সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর সব সুবিধাই শেষ হয়ে যায়।
3
13
বাস্তবে কিন্তু তা নয়। ইপিএস-র আওতায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সদস্যের পরিবারের যোগ্য ব্যক্তিরা মাসিক পেনশন পাওয়ার অধিকারী হন। প্রথমেই পেনশনের অধিকার পান মৃত সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী।
4
13
নিয়ম অনুযায়ী, জীবিত সঙ্গী আজীবন অথবা পুনর্বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত মাসিক পেনশন পেতে পারেন। সাধারণত এই পেনশনের পরিমাণ সদস্যের নির্ধারিত পেনশনের ৫০ শতাংশ হয়।
5
13
তবে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৪৫০ টাকার কম হতে পারে না। শুধু স্বামী বা স্ত্রীই নন, সদস্যের সন্তানরাও এই সুবিধার আওতায় আসে। সর্বাধিক দুইজন সন্তান ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে অতিরিক্ত পেনশন পেতে পারে।
6
13
এই পেনশনের পরিমাণ সাধারণত স্বামী বা স্ত্রীর প্রাপ্য পেনশনের ২৫ শতাংশ করে নির্ধারিত হয়। ফলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।
7
13
যদি দুর্ভাগ্যবশত বাবা-মা দু'জনেই মারা যান, তাহলে ইপিএস আরও বেশি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে। সেক্ষেত্রে সন্তানরা 'অরফ্যান পেনশন' বা অনাথ পেনশনের আওতায় আসে। এই পেনশনের পরিমাণ সাধারণত স্বামী বা স্ত্রীর পেনশনের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
8
13
এর মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করার চেষ্টা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সদস্যের কোনও স্বামী বা স্ত্রী কিংবা যোগ্য সন্তান নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
9
13
যদি সদস্যের ওপর নির্ভরশীল বাবা-মা থাকেন, তাহলে তাঁরাও পেনশনের সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়া সদস্য যদি আগে থেকেই কোনও নমিনি মনোনীত করে থাকেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সেই নমিনিও সুবিধা পেতে পারেন।
10
13
তাই আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দেন, বিয়ে, সন্তানের জন্ম বা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর ইপিএফ নমিনেশন অবশ্যই আপডেট করা উচিত। এটি শুধু মৃত্যুজনিত সুবিধাই দেয় না। কোনও সদস্য চাকরিরত অবস্থায় স্থায়ী ও সম্পূর্ণভাবে কর্মক্ষমতা হারালে তিনিও আজীবন মাসিক ডিজেবলমেন্ট পেনশনের অধিকারী হন।
11
13
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, সাধারণ ১০ বছরের চাকরির শর্ত প্রযোজ্য হয় না। মাত্র এক মাস ইপিএফ-এ অবদান রাখলেও সদস্য এই সুবিধা পেতে পারেন। প্রতিবন্ধকতা শুরু হওয়ার দিন থেকেই পেনশন কার্যকর হয় এবং বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক পেনশন ১,০০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
12
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানুষ পিএফ-কে শুধুমাত্র অবসরকালীন সঞ্চয় হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে এটি পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কোনও সদস্যের অকালমৃত্যুর পর এই মাসিক পেনশন হয়তো পুরো পরিবারের আয় পূরণ করতে পারে না, তবে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের পড়াশোনা বা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
13
13
তাই প্রত্যেক ইপিএফ সদস্যের উচিত নিজের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা, সময়মতো নমিনেশন আপডেট করা এবং পরিবারের সদস্যদের এই সুবিধাগুলি সম্পর্কে জানানো। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা কেউই ভাবতে চান না, কিন্তু আগে থেকে সঠিক পরিকল্পনা করে রাখলে কঠিন সময়ে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব।