মাস শেষ হওয়ার আগেই বেতন শেষ? এই ৫ ভুলেই হচ্ছে বিপদ, বদলে ফেলুন অভ্যাস
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ : ২০
শেয়ার করুন
1
13
মাসের শুরুতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতন ঢোকার পর মনে হয়, হাতে তো বেশ টাকা রয়েছে! কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় খরচের চাপ। বাড়িভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত, EMI—সব মেটাতে গিয়ে মাসের মাঝামাঝি সময়েই বোঝা যায়, বাজেটের হিসেব আর মিলছে না। এরপর মাসের শেষ কয়েকটা দিন কাটাতে হয় যথেষ্ট হিসেব করে।
2
13
আপনারও যদি প্রায় প্রতি মাসেই এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে শুধু আয় কম, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় কিছু অভ্যাসগত ভুলের কারণেও বেতন শেষ হয়ে যায়। কোন ভুলগুলি সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে, দেখে নিন।
3
13
মাসের শুরুতেই ইচ্ছেমতো খরচ করা: বেতন পাওয়ার পর হাতে টাকা থাকার অনুভূতি অনেককেই বেশি খরচ করতে উৎসাহিত করে। নতুন পোশাক, বাইরে খাওয়া, অনলাইন শপিং, ঘোরাঘুরি বা ছোটখাটো অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, প্রতিটি খরচ আলাদা করে খুব বড় মনে হয় না। কিন্তু মাস শেষে যোগ করলে দেখা যায়, একটা বড় অঙ্ক বেরিয়ে গিয়েছে। তাই বেতন পাওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন বেশি খরচ না করে আগে মাসের প্রয়োজনীয় খরচের হিসাব করা জরুরি।
4
13
বাজেট তৈরি না করা: কত টাকা আয় করছেন এবং তার মধ্যে কত টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, এই হিসাব না রাখলে প্রতিমাসের শেষেই বাজেটে টান পড়বে৷ সঞ্চয় করা কঠিন হবে৷
5
13
অনেকেই শুধু বড় খরচগুলির হিসাব রাখেন। অথচ প্রতিদিনের চা-কফি, খাবার ডেলিভারি, ক্যাব, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন বা ছোটখাটো কেনাকাটার মতো খরচও মাস শেষে বড় অঙ্ক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, EMI, বাজার, যাতায়াত, বিল, বিনোদন এবং অন্যান্য খরচ আলাদা বাজেট করা ভাল।
6
13
অনেকের ধারণা, সব খরচ মিটিয়ে মাসের শেষে যে টাকা থাকবে সেটাই সঞ্চয় করবেন। সমস্যা হল, মাস শেষে অনেক সময় আর টাকা অবশিষ্ট থাকে না। এর পরিবর্তে বেতন পাওয়ার পরই নির্দিষ্ট একটি অংশ সঞ্চয়ের জন্য সরিয়ে রাখা যেতে পারে।
7
13
ব্যাংকের আলাদা অ্যাকাউন্ট, recurring deposit বা নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী অন্য কোনও সঞ্চয় পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ, সঞ্চয়কে ‘যদি টাকা বাঁচে’ এমন বিষয় না করে মাসিক বাজেটেরই একটি অংশ করতে হবে।
8
13
হাতে টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড বা BNPL-এর মাধ্যমে কেনাকাটা করা যায়। ফলে সেই মুহূর্তে খরচের চাপটা বোঝা যায় না। কিন্তু পরের মাসে বিল বা কিস্তি মেটানোর সময় আসল চাপ শুরু হয়। বিশেষ করে প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটার জন্য ধার করে খরচ করলে মাসিক বাজেট আরও সংকুচিত হতে পারে। তাই কোনও কিছু কেনার আগে সেটি সত্যিই প্রয়োজনীয় কি না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো টাকা মেটানো সম্ভব কি না, তা দেখা জরুরি।
9
13
হঠাৎ অসুস্থতা, বাড়ির কোনও জরুরি মেরামতি, চাকরি সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে একসঙ্গে অনেক টাকা প্রয়োজন হতে পারে। যদি আগে থেকে কোনও এমার্জেন্সি ফান্ড না থাকে, তখন ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের উপর নির্ভর করতে হতে পারে।
10
13
তাই নিয়মিত সঞ্চয়ের পাশাপাশি ধীরে ধীরে একটি জরুরি তহবিল তৈরি করার চেষ্টা করা উচিত। কত টাকা রাখা প্রয়োজন, তা ব্যক্তির আয়, পরিবারের দায়িত্ব এবং মাসিক খরচের উপর নির্ভর করবে।
11
13
তাহলে কীভাবে মাসের শেষ পর্যন্ত টাকা ধরে রাখবেন?প্রথমেই গত কয়েক মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা খরচের হিসাব দেখে কোথায় সবচেয়ে বেশি টাকা যাচ্ছে তা খুঁজে বের করুন। এরপর প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ আলাদা করুন।
12
13
বেতন পাওয়ার পর সঞ্চয়ের টাকা সরিয়ে রেখে বাকি অর্থ দিয়ে মাসের খরচের পরিকল্পনা করুন।প্রতিদিনের ছোট খরচগুলিও লিখে রাখুন। সপ্তাহে একবার নিজের বাজেট পর্যালোচনা করলে কোথায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, তা সহজে বোঝা যায়।
13
13
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেতন বাড়লেই খরচও একই হারে বাড়াতে হবে, এমন নয়। আয় অনুযায়ী জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।