কেরিয়ারে যতই লাইমলাইটে থাকুন না কেন, ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময়ই ক্যামেরার আড়ালে রাখতেই ভালবাসেন সানি। পরিবার বা নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন না বললেই চলে। তা সত্ত্বেও, বলিউডের ইতিহাসে অভিনেত্রী ডিম্পল কপাডিয়া-র সঙ্গে ওঁর দীর্ঘদিনের চর্চিত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন আজও মাঝেমধ্যেই মাথাচাড়া দেয়। শোনা যেত, আটের দশক থেকে একটি ছবির সেট থেকে আলাপ এবং তারপরেই গভীর প্রেম সানি-ডিম্পলের। এবং তাঁদের মধ্যে সেই সম্পর্ক আজও নাকি বহাল তবিয়তে বর্তমান!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের সানি-ডিম্পলের পুরোনো দিনের গোপন খবরের ওপর থেকে পর্দা সরালেন প্রখ্যাত প্রবীণ আলোকচিত্রী রমাকান্ত মুন্ডে। বর্তমানের ‘পাপারাজ্জি কালচার’ এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসার বহু বছর আগে কীভাবে বলি তারকারা সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সানি-ডিম্পলকে নিয়ে কী ‘অলিখিত নিয়ম’ ছিল, তা ফাঁস করেছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রমাকান্ত মুন্ডে জানান, সেই সময় বিনোদন দুনিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে একটা অলিখিত বা না-বলা নিয়ম ছিল, যা সবাইকে মেনে চলতে হতো। আর তা হলো— সানি দেওল এবং ডিম্পল কাপাডিয়াকে কখনওই এক ফ্রেমে বন্দি করা যাবে না।রমাকান্তর কথায়, “কখনও কখনও ওঁরা কোনও সিনেমার সেটে, কোনও ইভেন্টে বা কোনও অনুষ্ঠানে একসঙ্গেই আসতেন, একসঙ্গেই থাকতেন। কিন্তু ওঁরা দু'জনেই ওঁদের একসঙ্গে ছবি তোলা একদম পছন্দ করতেন না। মিডিয়ার প্রত্যেকে এই বিষয়টি খুব ভাল করে জানত।”
মুন্ডে আরও জানান যে, যখনই সানি এবং ডিম্পল কোনো অনুষ্ঠানে আসতেন, তখনই ফটোগ্রাফারদের কাছে আগে থেকেই বার্তা বা সিগন্যাল চলে আসত। তিনি যোগ করেন, “ফটোগ্রাফারদের মধ্যে একটা মেসেজ দেওয়া থাকত যে ওঁরা একসঙ্গে থাকলে যেন ছবি না তোলা হয়। সাধারণত ওঁদের টিমের কেউ এসে আমাদের অনুরোধ করত, অথবা এমন কোনও সংকেত দেওয়া হতো যা দেখে আমরা বুঝে যেতাম যে এখন ছবি তোলা যাবে না।”
আজকের যুগে তারকারা কে কার সঙ্গে ডিনার ডেটে যাচ্ছেন বা হাত ধরে ঘুরছেন, তা জানার জন্য অনুরাগীদের মধ্যে চরম কৌতূহল থাকে। কিন্তু রমাকান্ত মুন্ডে স্পষ্ট করেন যে, আশির বা নয়ের দশকে মিডিয়ার সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তখন দর্শকরা তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা কে কার সঙ্গে মিশছেন, তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতেন না। জানতেও পারতেন না।
ম্যাগাজিনগুলো তখন অভিনেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের গসিপের চেয়ে ওঁদের ফ্যাশন, জুয়েলারি, মেকআপ এবং রুপোলি পর্দার গ্ল্যামারাস ছবির ওপর বেশি জোর দিত। ফলে সানি-ডিম্পলের একসঙ্গে ছবি না তোলার সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন তারকাদের নিজস্ব গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা ছিল, তেমনই সংবাদমাধ্যমের কাছেও সেই ছবির আজকের মতো কোটি টাকার নিউজ ভ্যালু ছিল না।
বলিউডের এই পুরোনো গুঞ্জনটি নতুন করে চর্চায় এসেছিল ২০১৭ সালে। লন্ডনে ছুটি কাটানোর সময় সানি দেওল এবং ডিম্পল কাপাডিয়ার একটি গোপন ভিডিও আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দু’জনকে একে অপরের হাত ধরে বাস স্টপে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে সেই সময় ইন্টারনেট দুনিয়ায় তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে নিজের প্রথম ছবি ‘ববি’ মুক্তির ঠিক আগে রাজেশ খান্নাকে বিয়ে করেছিলেন ডিম্পল। ওঁদের দুই কন্যা হলেন টুইঙ্কল খান্না এবং রিঙ্কি খান্না। ১৯৮৪ সালে ডিম্পল ও রাজেশ আলাদা হয়ে গেলেও ওঁদের কোনওদিনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে, সানি দেওল ওঁর স্ত্রী পূজা দেওলের সঙ্গে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং ওঁদের দুই ছেলেও আছে- করণ দেওল এবং রাজবীর দেওল। এইমুহূর্তে সানি দেওল ওঁর আগামী ছবি ‘বাঁটওয়ারা ১৯৪৭’-এর মুক্তি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। প্রীতি জিন্টার বিপরীতে এই ছবিতে সানিকে ফের পুরোনো মেজাজে দেখা যাবে।















