আইনি নোটিশ পেল কাজল আগরওয়াল এবং শ্রেয়স তালপাড়ে অভিনীত আসন্ন ছবি ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি: স্লো পয়জন ইন প্রোগ্রেস’ (The India Story: Slow Poison In Progress)। ভারতের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে যেভাবে এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে নির্মাতাদের তরফ থেকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

জি স্টুডিওস (Zee Studios) এবং এমআইজি প্রোডাকশন অ্যান্ড স্টুডিওস (MIG Production & Studios)-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটির পরিচালক চেতন ডিকে (Chettan DK) এবং ছবির গল্প লিখেছেন ও প্রযোজনা করেছেন সাগর বি. শিন্ডে (Sagar B. Shinde)। ছবিটি আগামী ২৪ জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

‘এগ্রি বিজনেস সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী ভবেশ সোধার (Bhavesh Sodha) পক্ষে আইনজীবী হিরণ্য পাণ্ডে (Hiranya Pandey) গত ১৫ জুন এই আইনি নোটিশটি জারি করেন। নোটিশটি জি স্টুডিওস, এমআইজি প্রোডাকশন অ্যান্ড স্টুডিওস এলএলপি এবং ছবিটির প্রযোজকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ছবিটির টিজার এবং প্রচারমূলক বিষয়বস্তুতে ভারতীয় কৃষি, দুগ্ধ উৎপাদন এবং পোলট্রি বা হাঁস-মুরগি পালন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর এবং বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত নয়, এমন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। 

নোটিশ অনুযায়ী, ছবিতে কীটনাশকের ব্যবহার, খাদ্যে ভেজাল এবং ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে ভারতের কৃষি ব্যবস্থাকে এক ধরণের "ধীর গতির বিষ" (slow poison)-এর উৎস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর যুক্তি, এই ধরনের উপস্থাপনা সারা দেশের কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদনকারী, পোলট্রি ব্যবসায়ী এবং কৃষি-উপকরণ সরবরাহকারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভীতি সৃষ্টি করতে পারে।

ছবিটির প্রচারে বেশ কিছু দৃশ্য এবং দাবি নিয়ে নোটিশে আপত্তি জানানো হয়েছে। প্রধান আপত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম, ছবিতে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ভারতে অত্যধিক পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ভারতে প্রতি হেক্টরে কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক কম। এছাড়া নোটিশে ব্যাপক হারে দুধে ভেজাল মেশানোর দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে এবং মৃত মুরগির শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে কিছু ইনজেক্ট করার দৃশ্যটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে৷ 

পাশাপাশি, কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে ক্যানসারের বৃদ্ধির হারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের যে প্রচেষ্টা ছবিতে দেখা গেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর যুক্তি, এ ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য জোরালো বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং প্রমাণ প্রয়োজন। আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে যে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা যেন ছবিটিতে যা দেখান হচ্ছে তার সপক্ষে তথ্য প্রমাণ পেশ করেন৷ এছাড়া ছবিটির টিজার এবং প্রচারের জন্য ব্যবহৃত সমস্ত ভিডিও ছবি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার দাবি করা হয়েছে৷ মুক্তির আগে চলচ্চিত্রটি সংশোধন করা প্রয়োজন, এই দাবিও জানানো হয়েছে।