আগস্টের প্রথম রবিবার মানেই বন্ধুত্বের দিন। হ্যাঁ, হ্যাঁ, বন্ধুত্বের আলাদা কোনও দিন হয় না, ঠিকই। কিন্তু দিন যখন একটা আছেই, সেটাকে বিশেষ ভাবে উদ্‌যাপন করতে ক্ষতি কী? বন্ধুদের গুরুত্ব জীবনে কতটা, এই দিনটির মাহাত্ম্যই বা কী সেটাই আজকাল ডট ইনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা, তথা বাচিকশিল্পী সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জি। 

ফ্রেন্ডশিপ ডে প্রসঙ্গে সুজয় প্রসাদ বলেন, "বন্ধুত্ব আমার কাছে কোনও দিবস, রাত্রি, মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ন, বা পাঁজি কিংবা মার্কেটিং ক্যালেন্ডার, প্রোগ্রামিং ক্যালেন্ডার দেখে তৈরি হয় না। আমার কাছে বন্ধুত্ব দিবসের আলাদা করে কোনও গুরুত্ব নেই। আমার কাছে বন্ধুত্বের গুরুত্ব আছে, আর সেটা এতটাই অপরিসীম.... আমার জীবন থেকে দু'জন অভিভাবক, মানে বাবা-মা চলে যাওয়ার পর, আমার বন্ধুবান্ধবরা এখন আমার অভিভাবক হয়ে উঠেছেন। বন্ধুরা যখন অভিভাবক হয়ে ওঠেন, সে সমবয়সী বন্ধু হোক, বা অসমবয়সী, সেটা কিন্তু একটা আলাদা যাপন। আমার কাছে বন্ধুরা জীবনের সুধাশক্তি। একটা বিষয় আমার কাছে খুবই জরুরি, সেটা হল আমার বন্ধুরা আমায় ছেড়ে কথা বলেন না। তাঁদের কাছে আমার পাবলিক ফেম, কাজ সবটাই জরুরি, কিন্তু একই ভাবে এটাও জরুরি, আমি যদি কিছু ভুল বা গণ্ডগোল করি, তাঁরা আমার মুখের সামনে আয়নাটা তুলে ধরেন।" তাঁর এদিন আরও সংযোজন, "আমার কোনও স্তাবক নেই। বন্ধুরা যদি স্তাবক হন তাহলে মুশকিল হয়, সেটা ক্ষতিকর। আমি এই স্তাবকবৃত্তে বিশ্বাস করি না। ফলে, আমার বন্ধুরা আমার বিপদে, আপদে, সুখে, দুঃখে পাশে এসে দাঁড়ান, আবার একই সঙ্গে আয়নাও দেখান যে, 'এটা ভুল। ঠিক হয়নি, ঠিক করতে হবে।' ওঁরা কিন্তু আমাকে ভীষণ স্পয়েলও করেন। খুবই প্যাম্পার করেন। রাত আড়াইটে নাগাদ খাবার খাওয়ান, ভাল চাইনিজ, ডেজার্ট খাওয়ান।  এই ভালবাসার কোনও তুলনা হয় না।" 

সোহাগ সেন এবং সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জির বন্ধুত্বের কথা টলিউডের সকলেই জানেন। জানেন তাঁদের অনুরাগীরাও। সেই বন্ধুত্বের বিষয়ে এদিন তিনি বলেন, "একজন খুব বড় বন্ধুর কথা এই ক্ষেত্রে বলতে চাই, সোহাগদির কথা। সোহাগ সেন আমার মেন্টর বটে, কিন্তু আবার একই সঙ্গে বন্ধুও। আমাকে কখনও কোর্টে বসাননি। খুব ননজাজমেন্টাল একজন মানুষ। বন্ধুত্বে ননজাজমেন্টাল হওয়াটা খুব দরকার। নাহলে দোষ, গুণ দু'টোকেই গ্রহণ করা যায় না। আমার যদিও গুণ কম, দোষ বেশি, সেটাকে মেনে নিতে তো বেশ বেগ পেতে হয়। তবে আমায় যাঁরা ভালবাসেন তাঁরা সেটা সহ্য করে নেন। সোহাগদির কথা আলাদা ভাবে বললাম কারণ সোহাগদির কাছ থেকে আমি অনেকটা জীবনপাঠ পাই। সেটা আমায় ভীষণ ভাবে সাহায্য করেছে, বিরাট প্রাপ্তি। আমার মা আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলেন। সেটা আমি খুব মিস করি।" 

অসমবয়সী বন্ধুত্বে বিশ্বাস করেন সুজয়? প্রশ্ন শুনেই জানান তিনি দারুণ বিশ্বাস করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর জীবনে এমন বন্ধুও আছে। তাঁদের বিষয়ে সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জি বলেন, "আমার জীবনের চালিকাশক্তি দু'টো বাচ্চা ছেলেমেয়ে, শুভায়ণ এবং অভিলীনা সেনগুপ্ত। দু'জনেই আমার থেকে অনেকটা ছোট। তবে ওদের সঙ্গে আমার বেশ জমে। ফলে বয়সের ফারাক যে আমি খুব একটা বুঝতে পারি, সেটা নয়। তবে হ্যাঁ, যদি বুঝে যাই, তাহলে সরে যাই। সেটা যদি একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সরে আসি।"