৯ কোটি টাকার ঋণ ও চেক বাউন্স মামলায় আত্মসমর্পণের আগে রাজপাল যাদব বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর কোনও বন্ধু নেই। এই মন্তব্য সামনে আসতেই অভিনেতাকে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে বলিউড। তিহার জেলে যাওয়ার পর অভিনেতার পাশে দাঁড়াতে একজোট হয়েছে চলচ্চিত্র মহল। প্রথমে সোনু সুদ প্রকাশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, রাজপালকে সাহায্য করতে ইন্ডাস্ট্রির এগিয়ে আসা উচিত। এরপর একাধিক প্রথম সারির তারকাও সমর্থনের হাত বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজপালের ম্যানেজার।
অভিনেতার ম্যানেজার গোল্ডি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অনেকেই রাজপালকে সাহায্য করার জন্য যোগাযোগ করেছেন। সোনু সুদ, সলমন খান, অজয় দেবগন, সকলেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেই ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনিও সাহায্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রতন জৈন, বরুণ ধাওয়ান-সহ আরও অনেকে এগিয়ে আসছেন। রাজপাল এই সমর্থনে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, আত্মসমর্পণের আগে রাজপাল কারও কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রি দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে।
গোল্ডির কথায়, “সকলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে আর্থিক লেনদেন রাতারাতি হয় না। মানসিকভাবে পরিবারকে শক্ত থাকতে হবে। রাজপাল ভাই নিজে খুব দৃঢ় মানসিকতার মানুষ, পরিবারও তেমনই। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে বাড়িতে কয়েকটি পারিবারিক অনুষ্ঠান রয়েছে। সকলেরই আশা, তার আগেই তিনি মুক্তি পাবেন।”
রাজপালের জামিন শুনানি শীঘ্রই হওয়ার কথা। তাঁর ম্যানেজার আশাবাদী, আদালত থেকে স্বস্তির রায় মিলতে পারে।
২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লির মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণ শোধে সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
২০১৮ সালের এপ্রিলে সাতটি চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রাজপালকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত রেখে বকেয়া অর্থ পরিশোধে আন্তরিক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়। ততদিনে সুদ-সহ মোট দেনা বেড়ে প্রায় ৯ কোটিতে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ৭৫ লক্ষ টাকা জমা দেন, তবে আদালত জানায়, অধিকাংশ অর্থই এখনও বাকি।
অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত এক সপ্তাহ সময় চেয়ে করা আবেদন খারিজ হওয়ার পরই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
সোনু তাঁর আসন্ন ছবিতে রাজপালকে একটি ভূমিকায় নেওয়ার পাশাপাশি অগ্রিম পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজনীতিক তেজ প্রতাপ যাদব ১১ লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। কমল আর খান ১০ লক্ষ এবং সঙ্গীত প্রযোজক রাও ইন্দ্রজিৎ সিং ১.১১ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
চলচ্চিত্র মহলের এই সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন রাজপাল পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা। এখন নজর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
৯ কোটির ঋণ মামলায় আশার আলো! এবার রাজপালের পাশে অজয়-সলমন
