অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে রাজপথে নামছেন টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। আগামী শনিবার, ৪ এপ্রিল বিকেল চারটেয় টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ স্লোগান। কিন্তু সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন ঘুরছিল, এই মিছিলের আয়োজন কারা করেছেন? শুক্রবার জানা গেল চার সংগঠনের আয়োজনে হচ্ছে এই মিছিল। চার সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন ওরফে ইম্পা, ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়াকার্স ওফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া, ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম ও ধারাবাহিকের প্রযোজক সংগঠন।
শুক্রবার এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে ৪৭ জন অভিনেতা-অভিনেত্রী ও টলিপাড়ার সদস্যদের সাক্ষর রয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রীজাত ব্যানার্জি, যিশু সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখার্জি, অরিন্দম শীল, পিয়া সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, রুদ্রনীল ঘোষ, শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি, রেশমী সেন, জিনিয়া সেন, কৌশিক সেন, অনির্বাণ চক্রবর্তী, ইশা সাহা, জিতু কামাল, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সুদীপা চ্যাটার্জি, স্বস্তিকা মুখার্জির মতো আরও তারকা।
এই বিষয়ে ফেডারেশন সভাপতি সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকস্তব্ধ এবং শিহরিত। এই ঘটনা আবারও আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই এই ঘটনার পিছনের আসল সত্যি সকলের সামনে আসুক। তাই আগামীকালের প্রতিবাদে আমি অবশ্যই থাকব। আপনাদের কাছে আমার বিনীত আবেদন আপনারাও এগিয়ে আসুন এবং আমাদের সাথে পা মেলান।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে রাহুলের? এনিয়ে টলিপাড়ার তারকা থেকে আমজনতার মনে একাধিক প্রশ্ন দেখা গিয়েছে। নানা ধোঁয়াশার রহস্য উদঘাটন, সর্বোপরি রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচার চেয়ে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। যেখানে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে ফেসবুকে পোস্ট করেন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তও।
সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, 'সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শুটিং করতে গিয়ে ২৯ মার্চ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর ন্যায় বিচার চেয়ে নাগরিক সমাজ একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করার জনন্য ডাক দিয়েছে। আগামী শনিবার, বিকেল চারটের সময়ে, টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়ো থেকে মিছিল হবে।
ইমপা-র সদস্যরা বহু বছর ধরে রাহুলের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সঙ্গী ছিলেন। সেই কারণেই আমরা এই মিছিলের অংশ হয়ে রাহুলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার চাইতে প্রস্তুত। ইমপার তরফে রাহুলের অনুরাগীদের কাছেও আমাদের আবেদন রইল, এই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
অন্যদিকে, এই আন্দোলনের আবহেই ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর একটি বয়ান ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সেখানে লেখা আছে, 'আগামী শনিবার চার তারিখ বিকেল চারটে থেকে, সদ্য ঘটে যাওয়া রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে, একটা মিছিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়েকে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আহ্বান জানানো হয়নি। আমরা সংগঠন হিসেবে এর আহ্বায়ক নই, এতে অংশগ্রহণকারীও নই। তবে যদি কোনও শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে এই মিছিলে অংশগ্ৰহণ করতে চান, তবে তা নিশ্চয়ই করতে পারেন। তাতে আমাদের সংগঠনের কোনও আপত্তি নেই।'
প্রসঙ্গত, আর্টিস্ট ফোরামের এই ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টুডিও পাড়ায় কানাঘুষো শুরু হয়েছে। অনেক শিল্পীরই প্রশ্ন, যখন সহকর্মীর অকালমৃত্যুতে বিচার চাওয়ার সময় এল, তখন কেন সংগঠন হিসেবে ফোরাম সামনে থাকছে না?















