একসময় দক্ষিণী ছবির পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেতা মোহন শর্মা। শুধু সিনেমাই নয়, তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জে. জয়ললিতার প্রতিবেশী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। অথচ সময়ের নির্মম পরিহাসে আজ জীবনের শেষ পর্বে এসে আর্থিক সংকটে ভুগছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। নিজের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর। তাই বাধ্য হয়েই তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

 তামিল, মালয়ালম, তেলুগু ও কন্নড় মিলিয়ে ১৭০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু খ্যাতি, সাফল্য আর করতালির সেই দিন এখন অতীত। ৮০ বছর বয়সি মোহন শর্মা বর্তমানে চেন্নাইয়ের গুম্মিডিপুন্ডির একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। একসময় চেন্নাইয়ের অভিজাত পোয়েস গার্ডেনে তাঁর নিজের বাড়ি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের বোঝা, ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা এবং কাজের অভাবে তাঁর আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে তাঁর কোনও নিয়মিত আয়ের উৎস নেই।
শুধু আর্থিক সমস্যাই নয়, একাধিক শারীরিক সমস্যাও তাঁকে কাবু করে রেখেছে। ভার্টিগো, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো অসুখে ভুগছেন তিনি। এছাড়াও একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসার খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় মেটানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর দুর্দশার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চলচ্চিত্র মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত। অভিনেতার আর্থিক সংকটের কথা জানতে পেরে তিনি ১ লক্ষ টাকা সাহায্য করেন। সেই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোহন শর্মা জানান, এই অর্থই এখন তাঁর জীবনের ভরসা। এর সাহায্যে অন্তত প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে পারছেন তিনি।

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এমন ঘটনা নতুন নয়। একসময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা বহু শিল্পীকেই জীবনের শেষ পর্যায়ে আর্থিক অনটনের মুখে পড়তে হয়েছে। মোহন শর্মার ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল। একসময়ের সফল অভিনেতা, যিনি বহু দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন, আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সহায়তার আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর এই পরিস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনুরাগীদের মধ্যেও সহানুভূতির সুর শোনা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্ষীয়ান শিল্পীদের জন্য আরও শক্তিশালী সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে জীবনের শেষ বয়সে তাঁদের এমন অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।