রুদ্রনীল ঘোষের উপস্থিতিতে সদ্য গঠিত হওয়া নতুন ফোরামের নাম, 'পারফরমার্স অব বেঙ্গল'। জানা গিয়েছে, এখানে অনেকেই থাকবেন। সব সদস্যরা তাঁদের মতামত জানাবেন, এবং পরবর্তীতে সেগুলো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাবেন তাঁরা। বুধবার প্রেসক্লাবে হাজির ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, শিলাজিৎ মজুমদার, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দ্য বোস, ক্যাকটাসের সিধু,পটা ও নন্দিনী ভট্টাচার্য সহ বহু বিশিষ্টরা। সমস্ত দাবি নিয়ে এদিন সরকার পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রুদ্রনীল ঘোষের মাধ্যমে POB এর তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদনপত্র তুলে দেওয়া হয়।
এই ফোরামের আগামিদিনের প্রকল্প নিয়ে আজকাল ডট ইন-কে নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, "শুধু শিল্পীরা নন, শিল্পীদের পিছনে যাঁরা সব সময় থাকেন, তাঁরা টেকনিশিয়ান। সিরিয়াল, সিনেমায় যেমন তাঁরা থাকেন, গান, বাচিক শিল্পের ক্ষেত্রেও থাকেন। বহু মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এর উপরে। এর মধ্যে পুরুষ শিল্পী যাঁরা আছেন তাঁদের অনেকেই ওনলি আর্নিং মেম্বার। তাঁদের চাপটা বেশি। আমাদের মূল ভাবনাটা। তাঁদের সব্বাইকে নিয়ে।"

নন্দিনী আরও বলেন, "আমি যদিও পুরুষদের অধীকার নিয়ে কাজ করি। কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমি তুলেছি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখি মহিলা শিল্পীরা রাত পর্যন্ত কাজ করতে গিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগেন। তাঁদের সুরক্ষাটা দেখা উচিত। কেউ যেন তাঁদের অসম্মানিত না করতে পারেন। দুস্থ ও বয়স্ক শিল্পীদের জন্য বিমার ব্যবস্থা ভাবা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের বেড, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া গেলে খুব ভাল হয়। আসলে বার্ধক্য ভাতার মতো কোনও সুবিধা তো তাঁরা পান না। যদি কমিটি গঠন করে তাঁদের সুবিধাগুলো দেখা হয়, ভাল হয়। কমিটিতেও তাঁরা যেন থাকেন, সেটাও দেখতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ব্যান্ড ছাড়াও সাধারণ বাংলা গানের প্রচার যেন থাকে। আর স্বজনপোষণটা বন্ধ করতে হবে। সেই ঘুরে-ফিরে হাতে গোনা কয়েকটা মুখই সব জায়গায় গাইবে, সেটা হবে না। সারেগামাপা-র মতো মঞ্চে জেলার শিল্পীদের প্রাধান্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর একটা বিষয় সেটা বাচিক শিল্প নিয়ে অ্যাওয়ানেস, ওয়ার্কশপ করানো উচিত। বিদেশে তো হয়, আমাদের এখানেও করতে হবে। জানি এগুলো কঠিন কাজ, তবুও একটু একটু করে করতে হবে। সরকারকে বাদ দিয়ে তো কোনওকিছু হবে না। যদি সরকার একটু সঙ্গে থাকেন, খুব ভাল হয়। আমার মতে, সরকারকে সবদিক ঠিক রেখে চলতে গেলে সংস্কৃতির দিকেও নজর দিতে হবে। বাংলায় সংস্কৃতির যে ভ্যারাইটি আছে, অন্য কোথাও নেই, তাই বাংলার সরকারকে তো এদিকটা দেখতেই হবে। যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আশা করি এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে আমাদের।"















