দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২৩ জুলাই পেক্ষাগৃহে আসতে চলেছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বহুল চর্চিত ও আটকে থাকা ছবি 'জন নায়গন' (হিন্দিতে 'জন নেতা')। এতদিন পর্যন্ত তামিল সিনেপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, রূপোলি পর্দায় এটাই থালাপথি বিজয়ের শেষ আত্মপ্রকাশ। এমনকি ছবির অডিও লঞ্চের সময় খোদ বিজয়ও আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, "বলব কি না জানি না, তবে নিজের শেষ ছবি ভাবলে তো একটু কষ্ট হবেই, তাই না? আপনারাই বলুন, আমি কী করব?"
কিন্তু এই ছবি মুক্তির ঠিক আগেই ঘটে গেল বড়সড় মোড় ঘোরানো ঘটনা! পরিচালক এইচ বিনোথের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য বিজয়-ভক্তদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে কি বিজয় থালাপথি এখনই অভিনয়কে বিদায় জানাচ্ছেন না?
"এটা কি সত্যিই ওঁর শেষ ছবি? নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারবে না। তবে একটা কথা বলতে পারি—এটা হয়তো তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় স্যারের প্রথম ছবি," সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক এই দাবি করেন পরিচালক বিনোথ। আরও জানান, 'জননায়গন' সাধারণ কোনও বাণিজ্যিক ছবি নয়, বরং এক 'রাজনৈতিক বার্তা' বহুল।
পরিচালক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আর দশটা মশলাদার বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ছবির মতো করে দেখলে ভুল হবে এই সিনেমাকে। বিনোথের কথায়, "এটা স্রেফ আর পাঁচটা ছবির মতো ছবি নয়। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ছবি। টিভিতে প্রশংসা পাওয়ার জন্য বা বিজয় স্যারকে দেবতুল্য বানিয়ে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে এই ছবি বানানো হয়নি। বরং অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এতে। হয়তো বিষয়গুলো মানুষের চেনা, কিন্তু দেখার পর এক বিশাল আলোড়ন ও আলোচনার সৃষ্টি হবে।"
ছবিটির বিষয়বস্তু যে দর্শককে বারবার পেক্ষাগৃহে টানবে, সে বিষয়ে একশ শতাংশ নিশ্চিত পরিচালক। ওঁর মতে, ছবিটি স্রেফ দেখার নয়, গভীর মনোযোগ দিয়ে 'চর্চা' করার মতো।
বিনোথ আরও যোগ করেন, "প্রায় দু’ঘণ্টার এই ছবির একটি আধঘণ্টার অংশ মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ। ওই ৩০ মিনিট যদি কেউ মন দিয়ে দেখেন, তবে অনেক গোপন সমীকরণ বুঝতে পারবেন। চাইলে ছবিটার সেই কনটেন্ট নিয়ে এক বছর ধরে গবেষণা করা যেতে পারে—এতটাই খোরাক রয়েছে এতে।"
'জন নায়গন' মুক্তি পাওয়ার আগেই পরিচালকের এই মন্তব্য তামিল রাজনীতি ও সিনেমা জগৎ—উভয় ক্ষেত্রকেই সমানভাবে গরম করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, পেক্ষাগৃহে এই 'রাজনৈতিক ট্রাম্প কার্ড' কতটা সফল হতে পারে!
















