বিতর্কিত কমেডিয়ান সময় রায়না-র তুমুল জনপ্রিয় শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এর নতুন সিজনের গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারে প্রথম তারকা অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন আলিয়া ভাট এবং শর্বরী ওয়াঘ। ইউটিউব এবং নেটফ্লিক্স — দুই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে ধামাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই শো-র প্রথম পর্বেই এক প্রতিযোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুবহু নকল করে দর্শকদের চমকে দেন। আমেরিকা-ইরান দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে ট্রাম্পের গলায় বলিউডের গান— পারফরম্যান্সের পরতে পরতে ছিল হাসির রোল।কিন্তু এই হাসি-মজার মাঝেই ‘এপস্টিন আইল্যান্ড’ -এর মতো এক মারাত্মক সংবেদনশীল এবং ন্যাক্কারজনক বিষয় নিয়ে কৌতুক করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। যেখানে শো-র প্রধান সঞ্চালক সময় রায়না এবং বাকিরা হেসেই খুন হচ্ছিলেন, সেখানে সেই সময়ে আলিয়া ভাটের অভিব্যক্তি দেখে অভিনেত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা নেটপাড়া।
শো-তে ট্রাম্পের মতো ম্যানারিজম আর বাচনভঙ্গি নকল করে প্রথম পর্বের বিজয়ী হন অবিনাশ আগরওয়াল নামের এক প্রতিযোগী। পারফর্ম করার সময় তিনি আচমকা ট্রাম্পের কায়দায় সংলাপ বলে ওঠেন, “তোমাদের তেল চাই? আমাদের দ্বীপে চলে এস বন্ধু। ওখানে প্রচুর তেল আছে!”
আমেরিকার কুখ্যাত ধনকুবের এবং সাজাপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সেই ব্যক্তিগত, কুখ্যাত দ্বীপের দিকেই ইঙ্গিত ছিল এই রসিকতার। কৌতুকটি শোনা মাত্রই সময় রায়না হাততালি দিয়ে ওঠেন এবং দর্শকেরা আমোদ পেয়ে চেঁচাতে শুরু করেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে আলিয়া ভাট হাসা তো দূর অস্ত, অত্যন্ত গম্ভীর মুখে অন্যদিকে তাকিয়ে নিজের অস্বস্তি প্রকাশ করেন। ওঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল যে, এই ধরনের কুরুচিকর জোকস উনি একেবারেই পছন্দ করছেন না।
ভিডিওর এই অংশটি কেটে এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হতেই আলিয়া ভাটকে নিয়ে ধন্য ধন্য করছেন নেটিজেনরা। চারপাশের সহকর্মী এবং দর্শকদের হাসির হুল্লোড়ের মাঝেও একা আলিয়া যেভাবে নিজের নৈতিকতা বজায় রেখেছেন, তা মন ছুঁয়ে গেছে সবার।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “চারপাশে এত চাপ, হুল্লোড় থাকা সত্ত্বেও এপস্টিন আইল্যান্ডের মতো একটা সংবেদনশীল বিষয়ে আলিয়া যে হাসেননি, তার জন্য ওঁর প্রশংসা প্রাপ্য।” আরেকজন লিখেছেন, “একটা ছোট অঙ্গভঙ্গিই মানুষের সচেতনতা আর নৈতিকতার পরিচয় দেয়। আলিয়া ভাট প্যানেলের একমাত্র সদস্য, যিনি এই নোংরা রসিকতায় হাসতে অস্বীকার করে নিজের সততা দেখিয়েছেন।” অন্য এক ক্ষুব্ধ নেটিজেন মন্তব্য করেন, “ওই প্রতিযোগী একের পর এক যুদ্ধাপরাধ, মানব পাচার, শিশু নির্যাতন এবং শিশু নিগ্রহের মতো বিষয় নিয়ে রসিকতা করছিল, যা কোনওভাবেই মজার ছিল না। একমাত্র আলিয়াকেই সেখানে চুপচাপ এবং বিরক্ত লাগছিল।”
অন্য দিকে, এই ধরনের একটি বিষয়কে শো-তে স্থান দেওয়া এবং তা উপভোগ করার জন্য সময় রায়নাকে একহাত নিয়েছেন নেটিজেনরা। বহু মানুষের মতে, জেফ্রি এপস্টিনের ওই দ্বীপে বছরের পর বছর ধরে কত অসহায় শিশু ও নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনও জোকসের পাঞ্চলাইন হতে পারে না। নেটপাড়ার এক বাসিন্দা লিখেছেন, “এপস্টিন ফাইলস কোনও সস্তা হাসির খোরাক নয়। এটাকে নিয়ে রসিকতা করার মানে হল সেই সমস্ত নির্যাতিত শিশুদের যন্ত্রণাকে উপহাস করা, যারা আজও বিচার পায়নি। সময় রায়না একটা জোকার, যে এই নিষ্ঠুরতা জেনেও হেসে উপভোগ করছে!”
প্রসঙ্গত, জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে নাবালিকা পাচার এবং শিশু যৌন নির্যাতনের এক বিশাল চক্র চালানোর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ওঁর নিজস্ব ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিশ্বের তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও তারকাদের যাতায়াত ছিল বলে তদন্তে জানা যায়। দুনিয়ার বহু দেশের বহু বিখ্যাত ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে যোগসূত্র ছিল এই কুখ্যাত যৌন অপরাধীর। ২০১৯ সালে জেলের কুঠুরিতে রহস্যজনকভাবে আত্মঘাতী হন এপস্টিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একসময় ওঁর চেনা-জানা ছিল, যদিও ট্রাম্প এপস্টাইনের এই সমস্ত অপরাধের কথা জানার কথা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় এপস্টিন সংক্রান্ত সমস্ত গোপন ফাইল প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর এখনও তা করে উঠতে পারেননি ট্রাম্প।















