বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক ইমতিয়াজ আলি তাঁর সিনেমার মাধ্যমে বরাবরই মানুষের আবেগ, সম্পর্ক এবং জীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর ছবিতে প্রেম, বিচ্ছেদ, নিজের পরিচয় খোঁজা এবং জীবনের লড়াইয়ের মতো বিষয় বারবার উঠে এসেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে রাজনীতি নিয়ে তাঁকে খুব বেশি সরব হতে দেখা যায় না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেন তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন, সেই বিষয়েই নিজের মতামত জানিয়েছেন পরিচালক।
ইমতিয়াজ আলি জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে বাঁধতে চান না। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল মানুষের গল্প বলা এবং সমাজের বিভিন্ন দিককে নিজের চোখে দেখা।
পরিচালকের মতে, একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাজ হল প্রশ্ন করা, ভাবা এবং মানুষের অনুভূতিকে সামনে তুলে ধরা। তাই তিনি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর বদলে সিনেমার মাধ্যমে নিজের কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন।
দেশভাগ মতো ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন ইমতিয়াজ। তিনি মনে করেন, দেশভাগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের জীবন, কষ্ট, হারানোর যন্ত্রণা এবং নতুন করে শুরু করার গল্প। তাই এমন কোনও বিষয় নিয়ে কাজ করলে শুধু রাজনীতির দিক নয়, মানুষের আবেগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দিকটিও দেখা জরুরি।
ইমতিয়াজ আলি বলেন, ইতিহাসের বড় ঘটনাগুলির পিছনে সাধারণ মানুষের যে ছোট ছোট গল্প থাকে, সেগুলিই তাঁকে বেশি আকর্ষণ করে। কারণ সিনেমার মাধ্যমে সেই অনুভূতিগুলিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
সাক্ষাৎকারে তাঁর 'ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা' ছবির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। পরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে আবার নতুন গল্প নিয়ে দর্শকদের কাছে ফিরতে চান। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
‘জব উই মেট’, ‘রকস্টার’, ‘তামাশা’-র মতো ছবির মাধ্যমে ইমতিয়াজ দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর সিনেমায় শুধু প্রেমের গল্প নয়, একইসঙ্গে মানুষের মনের দ্বন্দ্ব, স্বপ্ন এবং নিজের পরিচয় খোঁজার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বিষয়ে ইমতিয়াজের বক্তব্য, একজন শিল্পীর স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই কোনও নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে আটকে না রেখে তিনি মানুষের গল্প বলতেই বেশি আগ্রহী।
















