প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে সমাজমাধ্যমে ছিল চর্চার বিষয়। বিয়ের পর ভাল মুহূর্তের ছবি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন দেবলীনা৷ আচমকা সম্পর্কের অবনতি প্রকাশ্যে আসে হঠাৎ একদিন দেবলীনা গভীর রাতে মানসিক অবসাদ এবং সাংসারিক সমস্যার কথা প্রকাশ করলে৷ এরপর থেকে একাধিক বিতর্ক এবং প্রশ্ন৷ আজ আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন দেবলীনা৷
"আমার জীবনে ভাল খারাপ এতদিন যা যা হয়েছে সকলেই জানেন৷ কিন্তু এখন যে পদক্ষেপ করছি তা হয়তো করতাম না যদি উল্টোদিকের থাকা মানুষেরা থেমে যেতেন। এখনও অনেক কিছু চলছে যেগুলো আমার ভাল লাগছে না৷ কিছু জরুরি পদক্ষেপ করেছি৷ আমার পক্ষ থেকে আইনজীবি শুভম কাঞ্জিলাল এবং আইনজীবী দিব্য মুখার্জি রয়েছেন, তাঁরাই বলবেন৷ যে ভিডিওটা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে, সেখানে আমার জামাকাপড় এর ঠিক নেই৷ আমি কাঁদছি ও যদি আমাকে ভালইবাসত তাহলে এই ভিডিও পোস্ট করতে পারত? ইন্টারভিউতে বলছে বৌকে ভালিবাসি, বৌয়ের সম্মান রাখতে চেয়ে কিছু বলিনি৷ কী সম্মান রাখল? আমার মাকে নিয়ে যে সমস্যা ছিল তার তথ্যপ্রমাণও আছে আমার কাছে৷ যথাসময়ে পেশ করব৷ একা যাও কিন্তু বাড়ির লোককে মাকে নিয়ে যেতে পারব না৷ এমনকি প্রবাহ থাকলে মা আমার ফ্ল্যাটের ভিতর আসত না৷ কিন্তু আমার শ্বশুর শাশুড়ি আসতেন থাকতেন৷ আমার কোন প্রাইভেসি ছিল না৷ আমার তাতে কোনও সমস্যা ছিল না৷ হঠাৎ করে ওঁরা এলেন ১০ দিন থাকলেন, ১১ দিনের দিন আমাকে বের করে দেওয়া হল৷ এখন আর কিছু বলার নেই। যা বলবেন আমার আইনজীবীরা বলবেন৷"

শুভম কাঞ্জিলাল বলেন, "২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেবলীনা নন্দী এবং প্রবাহ নন্দীর বিয়ে হয়৷ বিয়ের শুরু থেকেই সমস্যা শুরু হয়৷ বিয়ের দিন দেবলীনা নন্দীর মাকে গায়ের রং এর জন্য কটাক্ষ করা হয়৷ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে হানিমুনে গিয়েছিলেন দেবলীনা-প্রবাহ৷ সেখানে মদ্যপ অবস্থায় দেবলীনার গায়ে হাত তোলেন প্রবাহ৷ বিভিন্ন তথ্য থেকে জেনেছি প্রবাহ নন্দী মাদক নিতেন এবং মদ্যপ৷ এই সব তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করা হবে৷ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ভাড়া বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয় দেবলীনাকে৷ চন্দননগর থানা, নিউটাউন থানা এবং সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ এক মাস পর প্রবাহ নিজে থেকেই দেবলীনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়৷ এরপর থেকে মানসিক অত্যাচার শুরু হয়৷ দিনের পর দিন প্রবাহর পরিবারের তরফে 'তুমি কেন মরে যাও না', 'তুমি মরে গেলে ভাল', এই ধরনের কথাবার্তা বলা হত৷ এর জেরেই দেবলীনা নন্দী ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন৷ সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ সেকশন ৮৫ বিএনএস এবং সেকশন ৩১৬ অফ বিএনএস ধারায় মামলা হয় যা পুরনো আইনে ৪৯৮ এ এবং ৪০৬ ধারায় মামলা ছিল৷ স্ত্রীর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন আর বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ৷ এরপর জিনিসপত্র ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়৷ একটা গলার চেন ১৫ গ্রামের এবং ৬৯ গ্রামের মান্তাসা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন৷ এর জন্য আইনমাফিক পদক্ষেপ করা হবে৷ প্রবাহ নন্দী চন্দননগর কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন৷ এরপর থেকে তারা আলাদা আছেন৷ দেবলীনা শুরু থেকেই বিয়ে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন৷ দেবলীনা নন্দী প্রোগ্রামে যেতেন কালশিটে দাগ থাকত৷ কিছুদিন আগে একটা ভিডিও এসেছে যেখানে দেখানো হয়েছে."
"প্রবাহ প্রতিদিন মদ খেত৷ পাইলট তাই বিধিনিষেধ মানতেই হত৷ ২৪ ঘণ্টা আগে মদ খেতে পারবেন না তাই সকাল থেকে মদ্যপান শুরু করত৷ দেবলীনাকে বহুবার হাত মুচড়ে দেওয়া, বারান্দা থেকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়৷ সাক্ষী পায়েল নস্কর যাকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে৷ কিন্তু ভিডিও বিকৃত করে পোস্ট করা হয়৷ সমাজমাধ্যমে সেই সব ভিডিওগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে৷ বিয়ের আগে একটা মোটা টাকা পণ হিসাবে চাওয়া হয়েছিল৷ এছাড়াও আর্থিক লেনদেনের বহু প্রমাণ আছে৷ প্রবাহ নন্দী এবং তাঁর ভাই টাকা চাইতেন৷ গার্হস্থ্য হিংসার মামলায় আজ একটা হিয়ারিং ছিল। প্রবাহ নন্দী আসেননি৷ এফআইয়ার হয়েছে যাঁর বিরুদ্ধে তিনি কোর্টে হাজিরাও দিচ্ছেন না৷ অন্য দেশের নাগরিকত্ব যাতে না পেতে পারেন সেই বিষয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে৷ পরবর্তী শুনানি ৪ জুলাই৷"
আইনজীবী ধ্রুব মুখার্জি বলেন, "বিয়ের আগে প্রবাহ নন্দী বা তাঁর পরিবার সব তথ্য সঠিক দেয়নি৷ ফ্ল্যাটটা তাঁদের বলা হয়েছিল কিন্তু সেটা ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাট৷ আর্থিক দিক থেকে সমস্যা নেই। কিন্তু এটা সঠিক তথ্য না। নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যে দেবলীনা থাকতেন বেশিরভাগ জিনিস দেবলীনার কেনা৷ তারপর তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়৷"















