সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী, শ্বশুর বাড়ির নামে অভিযোগ করে, শো থেকে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। পিজি হাসপাতাল তথা এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গায়িকা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই নতুনভাবে কাজে ফিরেছেন তিনি। ক'দিন‌ আগেই শো করেছেন দেবলীনা। তাঁকে আবার পুরনো ছন্দে ফিরতে দেখে দারুণ খুশি অনুরাগীরা। 

 

এবার জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন দেবলীনা। পেলেন বিরাট এক সুযোগ। রাণা সরকারের প্রযোজনায় আসন্ন ছবি 'গুনগুন করে মহুয়া'য় কণ্ঠ দেবেন দেবলীনা। এই খবরের ইঙ্গিত নিজেই সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন রাণা সরকার। এই পোস্ট দেখে দেবলীনাকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। 

'গুনগুন করে মহুয়া' ছবিতে প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিককে। ইতিমধ্যেই পর্দায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য চলছে তাঁর ওয়ার্কশপ। এদিন রাণা সরকারের পোস্টে দেখা গেল অঙ্কিতার পাশে দাঁড়িয়ে দেবলীনা। তাই নেটিজেনদের আর বুঝতে বাকি থাকেনি পুরো বিষয়টা। 


প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে দেবলীনা নন্দী তাঁর লাইভে জানান "আমি ভাঙতে ভালবাসি না। যদি আমি কাউকে ধরি, ধরে রাখতে ভালবাসি। তাতে যদি আমাকে মরতে হয় আমি মরে যাব। কিন্তু আমি সংসার ভাঙতে চাই, মানুষটাকে আমি ছাড়তে চাই না। শেষ মুহূর্তে অবধি মানিয়ে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। বাচ্চা চেয়েছি। দুই পরিবারকে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। প্রবাহকে প্রচণ্ড ভালবাসি।" 

 

দেবলীনা এদিন লাইভে জানান তিনি ৪ পাতা ঘুমের ওষুধ খান। তারপর সেই পাতাগুলোর ছবি অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে পাঠান। তখন সায়ক একে তাঁকে ফোনাফুনি করে সাঁতরাগাছির একটি হাসপাতালে ওঁকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে যাঁরা সায়ককে কটাক্ষ করছেন ঘর ভাঙানি বলে তাঁদেরও পাল্টা জবাব দেন দেবলীনা। তিনি সাফ সাফ বলেন, "সায়ক আমার ভাল বন্ধু। ভীষণই ভাল বন্ধু। ওকে ভাই বলে ডাকি। প্রবাহ কোনও দিন আমার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করেনি। কিন্তু কিছু মানুষ সেটা করছ। সায়ককে টানছ, তারা এটা করো না। ও দায়িত্ব নিয়ে আমাকে বাঁচানোর জন্য একে তাকে ফোন করে। এরপর থেকে ও আর কাউকে বাঁচাবে না। ভয় পাবে।" 

 

কেবল সায়ককে করা ট্রোল নয়, তাঁরা ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরও দেবলীনার বেঁচে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদেরও জবাব দেন। বলেন, "মানসিক ভাবে যে ভেঙে পড়েছে তাকে তোমরা আরও ভাঙছ।" 

 

দেবলীনা জানান, এত কিছুর পরও তিনি তাঁর স্বামীর অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সব জেনেও প্রবাহ তাঁকে দেখতে আসা তো দূর, ফোন পর্যন্ত করেননি। দেবলীনার কথায়, "আমি এখনও এখানে বসে আছি অপেক্ষা করছি যদি একবার প্রবাহ আসে। একবার জিজ্ঞেস করে আমি কেমন আছি, জানতে চাইবে । কিন্তু সেটা করবে না ও। প্রবাহর কাছে ভালবাসা ম্যাটার করে না।"